পটুয়াখালীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে ১৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিলা আক্তার নামে এক নারী। স্থানীয় ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।

পটুয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিলা আক্তার জানান, পটুয়াখালীতে চাকরি করার সুবাদে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিয়ের প্রলোভনে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাহাঙ্গীর।

শিলার অভিযোগ, একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেন জাহাঙ্গীর। তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও ভাড়া বাসায় ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় চিৎকার করতে চাইলে তাঁর মুখ চেপে ধরে বিবস্ত্র অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিলা আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে বিয়ের কথা বললে জাহাঙ্গীর অস্বীকৃতি জানান। বরং ধারণ করা ভিডিও ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে গত কয়েক মাসে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরে তাঁকে পটুয়াখালীর একটি নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে নিয়ে হলফনামা করিয়ে বিয়ে হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন এবং কাবিননামা নিবন্ধনের কথা বললে জাহাঙ্গীর রাজি হননি। উল্টো ঠিকাদারি কাজের জন্য টাকা প্রয়োজন জানিয়ে অর্থ দিলে বিয়ে করবেন বলে প্রস্তাব দেন।

শিলার অভিযোগ, চাপের মুখে নিজের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে এবং বাবার বাড়ি থেকে কয়েক দফায় টাকা এনে জাহাঙ্গীরকে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ১৫ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তাঁকে বিয়ে না করে রক্ষিতা হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিলা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। উল্টো তাঁকে গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। জাহাঙ্গীর বিভিন্ন মহলে টাকা দিয়ে থানা-পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেন বলেও অভিযোগ করেন শিলা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শিলা বলেন, তিনি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চান না; বরং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান। এ জন্য প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিলা আরও বলেন, তাঁর অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারী যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী বলেন, “যা করে করুক, তাতে কিছু আসে-যায় না।”

তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিলা আক্তার নিজেই একজন বড় প্রতারক এবং তাঁর একাধিক স্বামী রয়েছে। এ-সংক্রান্ত নথিপত্র তাঁর কাছে আছে বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর। তিনি আরও জানান, শিলা আক্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং মামলার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি।

জনপ্রিয়
কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে গলা কেটে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে গলা কেটে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে ১৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিলা আক্তার নামে এক নারী। স্থানীয় ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।

পটুয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিলা আক্তার জানান, পটুয়াখালীতে চাকরি করার সুবাদে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিয়ের প্রলোভনে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাহাঙ্গীর।

শিলার অভিযোগ, একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেন জাহাঙ্গীর। তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও ভাড়া বাসায় ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় চিৎকার করতে চাইলে তাঁর মুখ চেপে ধরে বিবস্ত্র অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিলা আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে বিয়ের কথা বললে জাহাঙ্গীর অস্বীকৃতি জানান। বরং ধারণ করা ভিডিও ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে গত কয়েক মাসে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরে তাঁকে পটুয়াখালীর একটি নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে নিয়ে হলফনামা করিয়ে বিয়ে হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন এবং কাবিননামা নিবন্ধনের কথা বললে জাহাঙ্গীর রাজি হননি। উল্টো ঠিকাদারি কাজের জন্য টাকা প্রয়োজন জানিয়ে অর্থ দিলে বিয়ে করবেন বলে প্রস্তাব দেন।

শিলার অভিযোগ, চাপের মুখে নিজের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে এবং বাবার বাড়ি থেকে কয়েক দফায় টাকা এনে জাহাঙ্গীরকে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ১৫ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তাঁকে বিয়ে না করে রক্ষিতা হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিলা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। উল্টো তাঁকে গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। জাহাঙ্গীর বিভিন্ন মহলে টাকা দিয়ে থানা-পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেন বলেও অভিযোগ করেন শিলা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শিলা বলেন, তিনি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চান না; বরং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান। এ জন্য প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিলা আরও বলেন, তাঁর অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারী যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী বলেন, “যা করে করুক, তাতে কিছু আসে-যায় না।”

তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিলা আক্তার নিজেই একজন বড় প্রতারক এবং তাঁর একাধিক স্বামী রয়েছে। এ-সংক্রান্ত নথিপত্র তাঁর কাছে আছে বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর। তিনি আরও জানান, শিলা আক্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং মামলার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি।