ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমা (৫০) নামের এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ডালিয়া আক্তার বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং স্থানীয় চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষিকা ছিলেন। এলাকায় তিনি সমাজসেবিকা ও নারী অধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আজ ২৩ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমা রসুলপুর এলাকার লিয়াকত শিকদারের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডালিয়া আক্তার তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি ওই বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। সকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ফাঁকা বাসায় একাকী থাকার সুযোগে কে বা কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।”
এদিকে বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডির (CID) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















