বিয়ের আনন্দের বদলে শোকের মাতম, বিয়ের আগের রাতেই প্রাণ গেল প্রকৌশলী আরিফের

বিয়ের আনন্দের বদলে শোকের মাতম, বিয়ের আগের রাতেই প্রাণ গেল প্রকৌশলী আরিফের
সরকার শাহাদত  হোসেন
গাইবান্ধায় বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে। বিয়ের আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ার (২২)। শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বিয়ের আয়োজন ঘিরে দুই পরিবারে যেখানে ছিল উৎসবের প্রস্তুতি, সেখানে প্রিয়জনকে হারিয়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত আরিফ গাইবান্ধা শহরের ভেভিড  কোমপা নিপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে বিয়েকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই অকালে ঝরে গেল তরুণের প্রাণ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন জামে মসজিদে আরিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে শহরের পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
আরিফের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বিয়ের জন্য প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তিনি। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর বাড়িতে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কনের বাড়িও সাজানো হয়েছিল নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে। বিয়ের দাওয়াতপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফ। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরিফের পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পর একজন চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, আরিফকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফের অসুস্থতার ধরন ও পরিবারের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কয়েক দিন ধরে টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকার সম্ভাবনার কথা মনে হয়েছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে চিকিৎসক ধারণা প্রকাশ করেন।
যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজত, সেখানে এখন কান্না
শনিবার ছিল আরিফের বিয়ের দিন। আত্মীয়স্বজনের আগমন, অতিথি আপ্যায়ন আর নতুন জীবনের নানা আয়োজন নিয়ে দুই পরিবারে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কিন্তু একটি মৃত্যু মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দিয়েছে। যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি আর হারানোর বেদনা।
একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় সন্তানকে, আরেকটি পরিবার হারিয়েছে হবু জামাতাকে। বিয়ের সাজসজ্জা, দাওয়াত ও আয়োজনের স্মৃতি এখন শুধুই বেদনার কারণ। আরিফের অকালমৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
রোজিনা প্রতিবন্ধী হয়েও উচ্চ শিক্ষিত

রোজিনা প্রতিবন্ধী হয়েও উচ্চ শিক্ষিত

বিয়ের আনন্দের বদলে শোকের মাতম, বিয়ের আগের রাতেই প্রাণ গেল প্রকৌশলী আরিফের

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সরকার শাহাদত  হোসেন
গাইবান্ধায় বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে। বিয়ের আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ার (২২)। শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বিয়ের আয়োজন ঘিরে দুই পরিবারে যেখানে ছিল উৎসবের প্রস্তুতি, সেখানে প্রিয়জনকে হারিয়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত আরিফ গাইবান্ধা শহরের ভেভিড  কোমপা নিপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে বিয়েকে ঘিরে ছিল অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই অকালে ঝরে গেল তরুণের প্রাণ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন জামে মসজিদে আরিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে শহরের পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
আরিফের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বিয়ের জন্য প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তিনি। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর বাড়িতে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কনের বাড়িও সাজানো হয়েছিল নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে। বিয়ের দাওয়াতপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফ। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরিফের পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পর একজন চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, আরিফকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফের অসুস্থতার ধরন ও পরিবারের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কয়েক দিন ধরে টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকার সম্ভাবনার কথা মনে হয়েছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে চিকিৎসক ধারণা প্রকাশ করেন।
যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজত, সেখানে এখন কান্না
শনিবার ছিল আরিফের বিয়ের দিন। আত্মীয়স্বজনের আগমন, অতিথি আপ্যায়ন আর নতুন জীবনের নানা আয়োজন নিয়ে দুই পরিবারে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কিন্তু একটি মৃত্যু মুহূর্তেই সবকিছু বদলে দিয়েছে। যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দে মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি আর হারানোর বেদনা।
একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় সন্তানকে, আরেকটি পরিবার হারিয়েছে হবু জামাতাকে। বিয়ের সাজসজ্জা, দাওয়াত ও আয়োজনের স্মৃতি এখন শুধুই বেদনার কারণ। আরিফের অকালমৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন