বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার পাকদী এলাকার শাহীন বেকারির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পৌরসভার পাকদী এলাকার তাজন নেছা স্মৃতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় ফেরার সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার একপর্যায়ে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাকদী এলাকায় যান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. অহিদুজ্জামান অহিদ। সেখানে গিয়ে হাতকড়া পরা ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে তাঁদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে মো. অহিদুজ্জামান অহিদ বলেন, ‘পুলিশ দুই আসামি ভুলে রেখছিল। ওখানেই থুয়ে গেছিল। পরে তারা আইয়া লইয়া গেছে। অন্য কিছু হয় নাই। আসামিরা কেউ অন্যহানে যায় নাই। পুলিশ বলছে, ওগের ছাইড়া দিবে। কোন অপরাধ তো পায় নাই। এইডা নিয়া আর কি মামলা হইবো আর।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচ থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশের পিকআপে দুজনকে তুলতে ভুল হয়। এরপর আরেকটি পিকআপ এসে তাঁদের নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অন্য কোনো সমস্যা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকদী এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডার সময় ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা কৌশলে হাতকড়াসহ সরে পড়েন। লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকায় পুলিশও দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়। পরে দুই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ আবার পাকদী এলাকায় অভিযান শুরু করে বলে জানান তাঁরা।
এ ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে। তাঁরা হলেন—পাকদী এলাকার নান্নু খলিফার ছেলে সিফাত খলিফা (২৫), হাবিবুর রহমান খানের ছেলে হানিফ খান (৪০), মৃত ডাবলু খলিফার ছেলে আরিফ খলিফা (২৯), মৃত রকিব খানের ছেলে শ্রাবণ খান (১৮), জাহাঙ্গীর আলম সরদারের ছেলে ইয়াসিন সরদার (১৮), মনির মাতুব্বরের ছেলে রমজান মাতুব্বর (১৮) এবং মৃত দবির মুনশির ছেলে মো. মঈন মুনশি (২২)।
জানতে চাইলে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামি পালানোর ঘটনা সঠিক নয়। হানিফ খান ও সিফাত খলিফাকে হাতকড়াসহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় তিনি তাঁর ফোনে ওই দুই ব্যক্তির ছবি দেখান। তবে ছবিতে অন্য পাঁচজনকে দেখা যায়নি।
ওসি আরও বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।




















