মু. রিয়াজুল ইসলাম লিটন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী (১৪-১৫ সেপ্টেম্বর) ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড হাইজিন মাস্টারক্লাস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন)-এর আয়োজনে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব এসএমই ফাউন্ডেশনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে দিনাজপুর, বগুড়া, বরিশাল, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী যারা ইতিমধ্যে উদ্যোক্তা হয়েছেন কেউ কেউ নতুন উদ্যোক্তা হতে চান তারা এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের মূলমন্ত্র ছিল—‘নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বিধিবিধানসম্মত খাদ্য = আস্থা + প্রবৃদ্ধি + টেকসই উন্নয়ন’।
প্রশিক্ষণের মূলমন্ত্র (Tagline) ছিল, “নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বিধিবিধানসম্মত খাদ্য = আস্থা + প্রবৃদ্ধি + টেকসই উন্নয়ন।”
প্রশিক্ষণটিতে লিড মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দ্য ম্যানেজমেন্ট অব এডুকেশন, প্রফেশনাল অ্যান্ড পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট (দ্য ম্যাপড)-এর সিইও এবং লিড মাস্টার ট্রেইনার মোঃ হাছিবুস সাহিদ (এমবিএ, মেরিট, যুক্তরাজ্য; ইএমবিএ ইন এইচআরএম; আইএফসি এলপিআই সার্টিফায়েড ট্রেইনার; বিটিইবি সার্টিফায়েড মাস্টার ট্রেইনার, লেভেল-৫; এবং এনএসডিএ সার্টিফায়েড ট্রেইনার ও অ্যাসেসর, লেভেল-৪)।
প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দ্য ম্যাপড-এর প্রিন্সিপ্যাল সাদিয়া আইরিন (এমবিএ ইন এইচআরএম; বিবিএ, আইবিএ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; আইএফসি এলপিআই সার্টিফায়েড ট্রেইনার; এবং এনএসডিএ ও বিটিইবি সার্টিফায়েড ট্রেইনার ও অ্যাসেসর, লেভেল-৪)।
প্রশিক্ষণে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যঝুঁকি শনাক্তকরণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য সংরক্ষণ ও মজুতকরণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, হালাল খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সনদায়ন এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রশিক্ষণ তাঁদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মানসম্মত পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তাদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।
তাঁরা এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণের মান ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। প্রশিক্ষকের উপস্থাপনা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, হ্যান্ডআউটের কার্যকারিতা, প্রশিক্ষণ পরিবেশ, ভেন্যু, খাবারের মান, সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য উদ্যোক্তারা আরও বেশি উপকৃত হবেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রাকিব উদ্দিন খান, লিড মাস্টার ট্রেইনার মো. হাছিবুস সাহিদ এবং প্রশিক্ষক সাদিয়া আইরিন অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের আস্থা অর্জন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্যশিল্পের টেকসই বিকাশে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এসব লাইসেন্স কীভাবে সহজে, হয়রানিমুক্তভাবে এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে পাওয়া যায়, সে বিষয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের সময় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন)-এর আয়োজনে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড হাইজিন মাস্টারক্লাস’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রশিক্ষণের এটিই প্রথম আয়োজন। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও নতুন উদ্যোক্তারা খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।






















