ফরিদপুরে সারের ডিলারশীপ নিয়ে তোলপাড়,বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

ফরিদপুরে সারের ডিলারশীপ নিয়ে তোলপাড়,বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুর জেলার নয়টি উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী।

অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এবং বিভিন্ন হামলা-মামলায় নির্যাতনের শিকার বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে অনেকে আশা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু ব্যক্তি সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগেরও অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন ও সার ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ফরিদপুর সদর থেকেও এ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির এক ত্যাগী নেতা নান্টু খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে সার ডিলারশিপের পরিবর্তে বিএডিসির চুক্তিভিত্তিক গুদাম ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ডিলারশিপ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির এক সদস্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অর্থের বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিএনপির নাম ব্যবহারকারী বিত্তশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মীয়স্বজনের জন্য তদবির করার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একসময় ওয়ার্ড পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন ছিল, অথচ এখন চারদিকে বিএনপির পরিচয়ধারীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতাধিক নেতাকর্মী সরব হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে জেলার দায়িত্বশীল পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

নিয়োগ কমিটি নিয়ে যা জানা গেছে

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের জন্য উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। আবেদন যাচাই-বাছাই করে এ কমিটির মাধ্যমেই ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নিয়োগে অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিতে হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণের আগে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কারও কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা ডিলারশিপ পাননি, তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ থেকে অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ করতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তদন্তের দাবি তৃণমূলের

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন সাধারণ মানুষ সার ডিলার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।

সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ ও অস্বীকারের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
দুর্গাপূজায় ৭ দিন বন্ধ বুড়িমারী বন্দরের আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজায় ৭ দিন বন্ধ বুড়িমারী বন্দরের আমদানি-রপ্তানি

ফরিদপুরে সারের ডিলারশীপ নিয়ে তোলপাড়,বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিপ্লব কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুর জেলার নয়টি উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী।

অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এবং বিভিন্ন হামলা-মামলায় নির্যাতনের শিকার বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে অনেকে আশা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু ব্যক্তি সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগেরও অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন ও সার ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ফরিদপুর সদর থেকেও এ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির এক ত্যাগী নেতা নান্টু খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে সার ডিলারশিপের পরিবর্তে বিএডিসির চুক্তিভিত্তিক গুদাম ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ডিলারশিপ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির এক সদস্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অর্থের বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিএনপির নাম ব্যবহারকারী বিত্তশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মীয়স্বজনের জন্য তদবির করার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একসময় ওয়ার্ড পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন ছিল, অথচ এখন চারদিকে বিএনপির পরিচয়ধারীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতাধিক নেতাকর্মী সরব হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে জেলার দায়িত্বশীল পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

নিয়োগ কমিটি নিয়ে যা জানা গেছে

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের জন্য উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। আবেদন যাচাই-বাছাই করে এ কমিটির মাধ্যমেই ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নিয়োগে অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিতে হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণের আগে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কারও কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা ডিলারশিপ পাননি, তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ থেকে অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ করতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তদন্তের দাবি তৃণমূলের

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন সাধারণ মানুষ সার ডিলার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।

সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ ও অস্বীকারের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।