মামুনুর রশিদ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে ভালো দামে বিক্রির স্বপ্ন দেখেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তাঁরা। হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি কেজি আলুর খরচ দাঁড়িয়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে
প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়া, বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের আর্থিক সংকট ক্রমেই বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে হিমাগারে আলু রেখে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেকের পুঁজি আটকে গেছে। দ্রুত বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছে। পরে দাম বাড়বে এমন প্রত্যাশায় অনেকেই আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। তাঁদের ধারণা ছিল,
মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে দাম বাড়লে সংরক্ষণের খরচ বাদ দিয়েও লাভ করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা। ফলে লাভের আশায় হিমাগারে রাখা আলুই এখন লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার কৃষক লিটন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন, দাম বাড়লে খরচ উঠে কিছুটা লাভ হবে। কিন্তু এখন হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে তাঁকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই উপজেলার আরেক কৃষক ও ব্যবসায়ী কুরবান আলী বলেন, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে তাঁরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাঁর পুঁজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। আলুর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর পরিমাণ আলু বাজারে আসার কথা থাকলেও চাহিদা কম
থাকায় বেচাকেনা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।




















