কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজারে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আব্দুস সালামের মালিকানাধীন করাতকল (স-মিল) চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই স-মিলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসন। এ সময় মিল মালিক আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা প্রায় এক সপ্তাহ মেনে চলার পর গত আগস্ট মাস থেকে আবারও স-মিলে কাঠ চেরাইয়ের কাজ শুরু করেন মালিক। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে নিয়মিত কাঠ চেরাই করা হচ্ছে।
![]()
স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে মঙ্গলকাটা বাজারের ওই স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনা ও কাঠ চেরাইয়ের অভিযোগে মিল মালিক আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া পর্যন্ত স-মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী মঙ্গলকাটা বাজারের অবস্থান ভারতের মেঘালয় সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ওই স-মিলে সরবরাহ করা হয়। তাদের দাবি, মিলে মেহগনি, শিলকড়ই, আকাশীসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ মজুত রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স-মিলের চারপাশে বিপুল পরিমাণ কাঠ রাখা রয়েছে। মিল মালিক ও কয়েকজন শ্রমিককে কাঠ চেরাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মিল মালিক সেখান থেকে চলে যান এবং শ্রমিকরা কাঠ চেরাই বন্ধ করে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশে স-মিলটি স্থাপন করায় পথচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধুলাবালি ও শব্দদূষণের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মিল চালু রাখার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম স-মিল চালানোর কথা স্বীকার করেন। মোবাইল কোর্টের পরও মিল চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধভাবে কাঠ চিড়ানোর কাজ করছেন।’
সরাসরি সাক্ষাৎ করে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা আপনারা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে ওই স-মিলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে করাতকলটি জব্দ করা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল বলেন, লাইসেন্স না থাকায় ওই করাতকলের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এরপরও যদি অবৈধভাবে মিল পরিচালনা করা হয়ে থাকে, তাহলে শিগগিরই করাতকলটির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।




















