নগরের যানজট কমাতে হাসপাতালগুলোর নকশা ও পার্কিংয়ে কড়া নজর সিডিএ’র

  • আপডেট সময় : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 46
নগরের যানজট কমাতে হাসপাতালগুলোর নকশা ও পার্কিংয়ে কড়া নজর সিডিএ’র
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরের ক্রমবর্ধমান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সামনে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা এবং সড়ক দখল করে যানবাহন রাখার বিষয়টি চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
এ প্রেক্ষাপটে হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালার প্রতিপালন এবং অনুমোদিত নকশা ও ব্যবহারের শর্তাবলি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সোমবার চউক’র একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টিম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন করা হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল এবং সিএসসিআর হাসপাতাল।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং স্পেস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থান অফিস বা অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং স্পেসে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উঠে আসে।
পরিদর্শন শেষে চউক’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, “আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করছি। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। তারা সিডওএ’র নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা না রেখেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা নিজেরাও খুব ভালো করে জানে যে তারা সিডিএ’র কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। সুতরাং, আমি তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—তারা যেন অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কেননা আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা একটি আইওয়াশ। সেটি করা চলবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সব সেবা সংস্থা এখন একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে এই নগরের যানজট নিরসন করা হবে। এই শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এই বিষয়টি বারবার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখব। আজ আমাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টিম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তাদের সার্বিক চিত্র দেখেছে।যেসব হাসপাতাল পার্কিং ব্যবস্থা রাখেনি, তাদেরকে আজ সতর্ক করা হয়েছে। । পরবর্তী পরিদর্শনে যদি হাসপাতালের আকার অনুসারে পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হয়, তবে কোনো অজুহাত না শুনে সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব’ বৃদ্ধা মাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিতে নারাজ ছেলে ; ইউএনওর কাছে অভিযোগ মায়ের

‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব’ বৃদ্ধা মাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিতে নারাজ ছেলে ; ইউএনওর কাছে অভিযোগ মায়ের

নগরের যানজট কমাতে হাসপাতালগুলোর নকশা ও পার্কিংয়ে কড়া নজর সিডিএ’র

আপডেট সময় : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরের ক্রমবর্ধমান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সামনে অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা এবং সড়ক দখল করে যানবাহন রাখার বিষয়টি চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
এ প্রেক্ষাপটে হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালার প্রতিপালন এবং অনুমোদিত নকশা ও ব্যবহারের শর্তাবলি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সোমবার চউক’র একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টিম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন করা হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল এবং সিএসসিআর হাসপাতাল।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, প্রয়োজনীয় পার্কিং স্পেস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থান অফিস বা অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিং স্পেসে ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের মতো বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উঠে আসে।
পরিদর্শন শেষে চউক’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, “আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করছি। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। তারা সিডওএ’র নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা না রেখেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা নিজেরাও খুব ভালো করে জানে যে তারা সিডিএ’র কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। সুতরাং, আমি তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—তারা যেন অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কেননা আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা একটি আইওয়াশ। সেটি করা চলবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সব সেবা সংস্থা এখন একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে এই নগরের যানজট নিরসন করা হবে। এই শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এই বিষয়টি বারবার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখব। আজ আমাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টিম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তাদের সার্বিক চিত্র দেখেছে।যেসব হাসপাতাল পার্কিং ব্যবস্থা রাখেনি, তাদেরকে আজ সতর্ক করা হয়েছে। । পরবর্তী পরিদর্শনে যদি হাসপাতালের আকার অনুসারে পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হয়, তবে কোনো অজুহাত না শুনে সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন