গ্যাস না পাওয়া গ্রাহকদের আগস্টের বিল মওকুফের দাবি

গ্যাস না পাওয়া গ্রাহকদের আগস্টের বিল মওকুফের দাবি

গ্যাস না পাওয়া গ্রাহকদের আগস্টের বিল মওকুফের দাবি

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে আগস্ট মাসে যেসব আবাসিক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস পাননি কিংবা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের কারণে গ্যাস ব্যবহার করতে পারেননি, তাদের কাছ থেকে ওই মাসের পূর্ণ বিল আদায় না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।

সংগঠনটি একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল সমন্বয় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিল মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আবেদন করেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিইআরসির কাছে দেওয়া আবেদনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আগস্টের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক আবাসিক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। অথচ নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহারের প্রকৃত সময় বা পরিমাণ বিবেচনা না করেই নির্ধারিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ বলছে, কোনো গ্রাহক মাসের উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হলে ওই সময়ের জন্য পূর্ণ বিল আদায় করা ন্যায়সংগত নয়। গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহককে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকারের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

আবেদনে আগস্ট মাসে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক সরবরাহের সময়, গ্যাসের চাপ ও ঘাটতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব এলাকায় আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ ছিল না কিংবা অত্যন্ত নিম্নচাপ ছিল, সেসব এলাকার নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের আগস্টের পূর্ণ বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায় না করার জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরবরাহ ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল কমানো এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিল মওকুফের ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের দেওয়া বিলে আগস্টের সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিল সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল সমন্বয়ের জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ। এতে গ্রাহকদের প্রতিবার আলাদাভাবে অভিযোগ বা আবেদন করার প্রয়োজন হবে না বলে সংগঠনটির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সময় ও চাপের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং গ্যাস সংকটের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকট শুধু জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোক্তা অধিকারের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সেবা না থাকলে সেই সেবার পূর্ণ মূল্য আদায় করা ভোক্তাবান্ধব ব্যবস্থা হতে পারে না।

এ কারণে আগস্ট মাসের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই মাসের পূর্ণ বিল আদায় না করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিল সমন্বয় বা মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বিইআরসির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের মতো পরিস্থিতিতে গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘সেবা না থাকলে বিল নয়’ অথবা ‘সেবা ঘাটতিতে বিল সমন্বয়’ নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।

জনপ্রিয়
প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

গ্যাস না পাওয়া গ্রাহকদের আগস্টের বিল মওকুফের দাবি

গ্যাস না পাওয়া গ্রাহকদের আগস্টের বিল মওকুফের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে আগস্ট মাসে যেসব আবাসিক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস পাননি কিংবা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের কারণে গ্যাস ব্যবহার করতে পারেননি, তাদের কাছ থেকে ওই মাসের পূর্ণ বিল আদায় না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।

সংগঠনটি একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল সমন্বয় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিল মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আবেদন করেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিইআরসির কাছে দেওয়া আবেদনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আগস্টের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক আবাসিক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। অথচ নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহারের প্রকৃত সময় বা পরিমাণ বিবেচনা না করেই নির্ধারিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ বলছে, কোনো গ্রাহক মাসের উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হলে ওই সময়ের জন্য পূর্ণ বিল আদায় করা ন্যায়সংগত নয়। গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহককে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকারের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

আবেদনে আগস্ট মাসে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক সরবরাহের সময়, গ্যাসের চাপ ও ঘাটতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব এলাকায় আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ ছিল না কিংবা অত্যন্ত নিম্নচাপ ছিল, সেসব এলাকার নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের আগস্টের পূর্ণ বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায় না করার জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরবরাহ ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল কমানো এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিল মওকুফের ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের দেওয়া বিলে আগস্টের সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিল সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল সমন্বয়ের জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ। এতে গ্রাহকদের প্রতিবার আলাদাভাবে অভিযোগ বা আবেদন করার প্রয়োজন হবে না বলে সংগঠনটির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সময় ও চাপের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং গ্যাস সংকটের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকট শুধু জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোক্তা অধিকারের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সেবা না থাকলে সেই সেবার পূর্ণ মূল্য আদায় করা ভোক্তাবান্ধব ব্যবস্থা হতে পারে না।

এ কারণে আগস্ট মাসের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই মাসের পূর্ণ বিল আদায় না করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিল সমন্বয় বা মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বিইআরসির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের মতো পরিস্থিতিতে গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘সেবা না থাকলে বিল নয়’ অথবা ‘সেবা ঘাটতিতে বিল সমন্বয়’ নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।