অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এরই মধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের একই সময়ে মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার আগাম ফুলকপির আবাদ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের আশা, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফুলকপি তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে এবং লাভও বেশি হবে।
উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া, প্রাণনগর ও পঁচিশ মাইল এলাকা, ভোগনগর ইউনিয়নের বটতলী,
ভাবকি ও নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া এবং পল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে আগাম ফুলকপির সবুজ সমারোহ। অনেক ক্ষেতের গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেতে ইতোমধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলামের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় গ্রামের কৃষকরা
আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যেই তাঁর ক্ষেতের ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, চার বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করতে অতিরিক্ত শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবে ভালো ফলন ও বাজারে সন্তোষজনক মূল্য পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন। বিশেষ করে পরিমিত সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম দলুয়া এলাকার আগাম ফুলকপির ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের রত্না, নাসা-৪৫, হোয়াইট মার্বেল ও নিনজা জাতের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগাম ফুলকপি বিক্রি করে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমের সাফল্য আগামী বছরগুলোতে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে




















