সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্প

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

দুদক ফাইল ফটো

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ অনুমোদিত প্যাকেজের বাইরে ভাগ করা, ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)/সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। প্যাকেজটির মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

দুদকের দাবি, ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব দ্য প্রকিউরিং এনটিটি (হোপ)-এর অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের কাজ আরও আটটি পৃথক প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।

আটটি প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আইবাস প্রতিবেদনে এ অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পেয়েছে, আটটি প্যাকেজের মধ্যে অন্তত চারটি কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে ছিল নির্মাণকাজ উদ্বোধন উপলক্ষে ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিং; ভাঙা গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন ও র‌্যাম্পের কাজ; হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ; অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ এবং অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া নির্মাণ।

এসব কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র বা মেজারমেন্ট বুকও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ১০০ দশমিক ৯৪ লাখ টাকা মূল্যের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ প্যাকেজের দর অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারির ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যমানের দর অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের দর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের সিভিল কাজ বিধি লঙ্ঘন করে আটটি প্যাকেজে বিভক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিল পরিশোধ করা হয়।

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র বের করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ কারণে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

জনপ্রিয়
প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্প

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

আপডেট সময় : ০৭:০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের কাজ অনুমোদিত প্যাকেজের বাইরে ভাগ করা, ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)/সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। প্যাকেজটির মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

দুদকের দাবি, ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব দ্য প্রকিউরিং এনটিটি (হোপ)-এর অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের কাজ আরও আটটি পৃথক প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।

আটটি প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আইবাস প্রতিবেদনে এ অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পেয়েছে, আটটি প্যাকেজের মধ্যে অন্তত চারটি কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে ছিল নির্মাণকাজ উদ্বোধন উপলক্ষে ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিং; ভাঙা গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন ও র‌্যাম্পের কাজ; হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ; অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ এবং অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া নির্মাণ।

এসব কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র বা মেজারমেন্ট বুকও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ১০০ দশমিক ৯৪ লাখ টাকা মূল্যের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ প্যাকেজের দর অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারির ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যমানের দর অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের দর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের সিভিল কাজ বিধি লঙ্ঘন করে আটটি প্যাকেজে বিভক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিল পরিশোধ করা হয়।

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র বের করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ কারণে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।