শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর কক্সবাজার জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে কক্সবাজার জেলার ৯টি কলেজের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। এর মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চায়।

খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শুধু প্রতিযোগিতা করতে শেখায় না, জয়-পরাজয়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ, প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, নিয়ম মেনে চলা এবং দলগতভাবে কাজ করার শিক্ষাও দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় মোট ১১টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলার বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মফিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং ল্যাব আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে তিনি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
লাশ উত্তালেনের আট মাসেও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়ার অভিযোগ

লাশ উত্তালেনের আট মাসেও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়ার অভিযোগ

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর কক্সবাজার জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে কক্সবাজার জেলার ৯টি কলেজের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। এর মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চায়।

খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শুধু প্রতিযোগিতা করতে শেখায় না, জয়-পরাজয়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ, প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, নিয়ম মেনে চলা এবং দলগতভাবে কাজ করার শিক্ষাও দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় মোট ১১টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলার বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মফিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং ল্যাব আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে তিনি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।