বগুড়া জেলা প্রতিনিধি | মীর মো: রাকিব হাসান:
বগুড়া শহরে ছিনতাই, পকেটমারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার একাধিক অভিযোগে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের ওপর হামলা এবং এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার পৃথক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের পেছনে রতন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানার এএসআই উজ্জ্বল হোসেন ও কনস্টেবল বাবলা অভিযানের সময় হামলার শিকার হন। পরে রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত তথ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই ও পকেটমারিসহ ২৮টি মামলার কথা উল্লেখ রয়েছে।
একই দিন রাতে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী আমতলা এলাকায় নাফিউল ইসলাম নিরব (২৮) ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় পকেটমারি ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ও উৎসবের ভিড়ে মানুষের মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্গাপূজার নবমীর দিন দত্তবাড়ি এলাকায় অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন হারানোর যে দাবি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তর চেলোপাড়ার সান্দারপট্টিসহ কয়েকটি এলাকা ঘিরে ছিনতাই ও পকেটমারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে পুলিশি বক্তব্য ও প্রামাণ্য তথ্য প্রয়োজন।
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বগুড়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পুলিশ প্রশাসন এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।




















