মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সফল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির মিয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করে দেখা উচিত। যাচাইহীন তথ্য প্রচার করে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা সমীচীন নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নাসির মিয়া যাদুকাটা নদীর ইজারা ব্যবসার পাশাপাশি কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসা এবং ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। এসব শ্রমিকের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল তাঁদের পরিবারের খাদ্য,চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যকে ঘিরে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়টিও জড়িত। তাই যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, যাদুকাটা নদীর শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নাসির মিয়া আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে চলতি বছরও নদীটির ইজারা গ্রহণ করেছেন এবং এ জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নদীকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জীবিকা সচল রাখতে এ ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ইজারা ও রাজস্বসংক্রান্ত এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নাসির মিয়ার পারিবারিক ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের ভাষ্য, তাঁর বাবা কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যাদুকাটা নদীর ইজারাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সুনাম অর্জন করেছিলেন। বাবার ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতায় নাসির মিয়াও বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
নাসির মিয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদকারীরা এর নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
তবে কোনো অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ব্যবসা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কারও বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়নও প্রয়োজন।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, নাসির মিয়াকে নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তাঁরা নাসির মিয়াকে ঘিরে কথিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যেকোনো বিতর্কের ক্ষেত্রে সত্য ও তথ্য-প্রমাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে যাদুকাটা নদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।




















