পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইজিবাইক চালক আল-আমিন নিখোঁজের পর গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন মুন্না এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আবু সায়েদ এবং জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি ইয়াসিনুল হক দুলাল রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত পিপি আবু সায়েদ বলেন, আসামি মুক্তা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের রক্ত নিয়ে উল্লাস করতে চেয়েছিলেন। এই হত্যা ও গুমের রহস্য উদঘাটনে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। আমরা ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম, আদালত ২ দিন মঞ্জুর করেছেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আজ আদালতে জামিন আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করি, পরবর্তী শুনানিতে তিনি একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার ও জামিন পাবেন।
পঞ্চগড় আদালতের পরিদর্শক (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ইজিবাইক চালক আল-আমিন নিখোঁজ হন। পরে এই ঘটনায় সাবেক এমপি মুক্তাসহ একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করা হয়। গত ৬ অক্টোবর ভোরে পঞ্চগড় জেলা শহরের কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ।




















