মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান):
এক সময় হৃদরোগীদের পরীক্ষা করাতে বান্দরবান জেলা সদর, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার -এর মতো বড় শহরে যেতে হতো। এখন থেকে নামমাত্র মূল্যে এই সুবিধা পাওয়া যাবে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে উপজেলা পরিষদ, নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম’র ব্যক্তিগত অর্থায়নেই যুক্ত করা হয় ‘ইকোকার্ডিওগ্রাফি’। উপজেলা পর্যায়ে প্রথম এই ইকোকার্ডিওগ্রাফি (ইকো) পরীক্ষা ও হৃদরোগ নির্ণয় সেবা চালু করা হলো। প্রতি সপ্তাহের শনি ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীরা এই ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবা নিতে পারবেন। এ সেবা চালুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে হৃদ্রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের মানুষ ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবা নিতে পারবেন। তবে সেবাটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং রোগীদের সহজে সেবা পাওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বৃহস্পতিবার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় এ ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবার উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম’র সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আমির হোসেন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলাইমান, লামা প্রেসক্লাব’র সভাপতি মো. কামরুজ্জামান অতিথি ছিলেন।
স্থানীয় রোগীর স্বজনরা জানান, লামা ও আলীকদম উপজেলায় কোন একজনের হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত সেবা পাওয়ার কোনো জায়গা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইকোকার্ডিওগ্রাফি স্থাপনের ফলে হৃদরোগ চিকিৎসায় কিছুটা হলেও ভরসাস্থল হলো।
স্থানীয় রোগীর স্বজনরা জানান, লামা ও আলীকদম উপজেলায় কোন একজনের হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত সেবা পাওয়ার কোনো জায়গা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইকোকার্ডিওগ্রাফি স্থাপনের ফলে হৃদরোগ চিকিৎসায় কিছুটা হলেও ভরসাস্থল হলো।
সেবাটি চালুর ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত কিংবা হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে থাকা রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দূরবর্তী শহরে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শারীরিক ভোগান্তির মুখে পড়তে হত। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবা চালু হওয়ায় রোগীরা নিজ এলাকাতেই অত্যন্ত কম খরচে দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবা চালুর এ উদ্যোগ লামা, আলীকদম ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।





















