রামগঞ্জের আশ্রয়ন  প্রকল্পের ঘর গুলো এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা

রামগঞ্জের আশ্রয়ন  প্রকল্পের ঘর গুলো এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের  ঘর গুলো এখন মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অনেক ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীরা। কোথাও ঘর তালাবদ্ধ, কোথাও আবার অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব ফাঁকা ঘর ও আশপাশের স্থানে রাত নামলেই মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের বাসিন্দা ও স্থানীয়রা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে বাসিন্দা ও স্থানীয়দের সাথে  কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব ও পছন্দের ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের একটি অংশ পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো অপরাধীদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ে রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি স্থানে মোট ৩১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উপকারভোগীদের দুই শতক জমিসহ এসব ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৯৪টি ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৪৩ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। বাকি ঘরগুলোর অনেকগুলো তালাবদ্ধ, খালি পড়ে আছে কিংবা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রকল্প এলাকায় অনেকটা নীরবতা থাকলেও সন্ধ্যার পর চিত্র বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। এতে প্রকল্পের প্রকৃত বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান তারা।
৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের গণেশের বাড়ির পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাড়া অধিকাংশ ঘরে বর্তমানে অন্যরা বসবাস করছেন। কেউ কেউ বরাদ্দ পাওয়া ঘর অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
 ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের লামচর দিঘীর পাড়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ৩৭টি ঘর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, এর মধ্যে ১৫ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজ ঘরে বসবাস করছেন। ১৭টি ঘরে অন্যরা বসবাস করছেন এবং পাঁচটি ঘর খালি পড়ে রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর খালি ঘর ও বারান্দাগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
রৌশনারা বেগম, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহের , ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয়রা অনেকে দ্রুত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর প্রতিটি ঘর পুনরায় যাচাই-বাছাই, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির বসবাস নিশ্চিত করা এবং যারা ঘরে থাকছেন না তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানান তারা। তারা বলেন, সরকারের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের মহৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো যদি দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকে কিংবা মাদকসেবী ও অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়, তাহলে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব প্রকল্পের সুফল কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে  অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলোতেও খোঁজখবর নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেখানে শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা ঘরে থাকছেন না, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা প্রকৃত উপকারভোগী নন বা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
ঘুষ নিয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা দেখিয়েছেন ডাক্তার, দাবি নিহতের পরিবারের

ঘুষ নিয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা দেখিয়েছেন ডাক্তার, দাবি নিহতের পরিবারের

রামগঞ্জের আশ্রয়ন  প্রকল্পের ঘর গুলো এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের  ঘর গুলো এখন মাদক সেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অনেক ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীরা। কোথাও ঘর তালাবদ্ধ, কোথাও আবার অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব ফাঁকা ঘর ও আশপাশের স্থানে রাত নামলেই মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের বাসিন্দা ও স্থানীয়রা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে বাসিন্দা ও স্থানীয়দের সাথে  কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব ও পছন্দের ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের একটি অংশ পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো অপরাধীদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ে রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি স্থানে মোট ৩১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উপকারভোগীদের দুই শতক জমিসহ এসব ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৯৪টি ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৪৩ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। বাকি ঘরগুলোর অনেকগুলো তালাবদ্ধ, খালি পড়ে আছে কিংবা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রকল্প এলাকায় অনেকটা নীরবতা থাকলেও সন্ধ্যার পর চিত্র বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। এতে প্রকল্পের প্রকৃত বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান তারা।
৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের গণেশের বাড়ির পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাড়া অধিকাংশ ঘরে বর্তমানে অন্যরা বসবাস করছেন। কেউ কেউ বরাদ্দ পাওয়া ঘর অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
 ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের লামচর দিঘীর পাড়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ৩৭টি ঘর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, এর মধ্যে ১৫ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজ ঘরে বসবাস করছেন। ১৭টি ঘরে অন্যরা বসবাস করছেন এবং পাঁচটি ঘর খালি পড়ে রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর খালি ঘর ও বারান্দাগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
রৌশনারা বেগম, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহের , ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয়রা অনেকে দ্রুত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর প্রতিটি ঘর পুনরায় যাচাই-বাছাই, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির বসবাস নিশ্চিত করা এবং যারা ঘরে থাকছেন না তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানান তারা। তারা বলেন, সরকারের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের মহৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো যদি দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকে কিংবা মাদকসেবী ও অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়, তাহলে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব প্রকল্পের সুফল কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে  অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলোতেও খোঁজখবর নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেখানে শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা ঘরে থাকছেন না, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা প্রকৃত উপকারভোগী নন বা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন