উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পরিবহন শ্রমিক সংগঠন জয়পুরহাট জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা উৎসবের আমেজে চলে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের মোট ৪ হাজার ৭২১ জন ভোটারের মধ্যে অধিকাংশই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৫৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১৩টি সম্পাদকমণ্ডলীর পদসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থীরা নিজেদের বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে সভাপতি পদে ৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং কড়া নজরদারি বজায় ছিল।
বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোটকেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও সকল প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট পেপার গণনার কাজ পুরোদমে চলছে। আজ রাতেই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জয়পুরহাটের মটর শ্রমিকরা আগামী তিন বছরের জন্য ২১ জনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। শ্রমিকরা জানান, মহাসড়কে নিরাপত্তা, শ্রমিকের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে যে সকল নেতা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন, তাদেরকেই তারা বেছে নিচ্ছেন। দিনভর কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটারসহ সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, সকাল থেকেই ভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও অবাধ হয়েছে। ৭৫-৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোট গনণার পর সুন্দরভাবে ফলাফল ঘোষণা কতে পারবো বলে আমরা আশা করছি।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভোট গ্রহণ সুন্দরভাবে হয়েছে। এখন গণনা চলছে। যারা পর্যবেক্ষক হয়েছেন, তারা জানিয়েছেন গত কয়েক দশকে এমন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়নি। এই নির্বাচনে পর্যাপ্ত আনসার, পুলিশ, ডিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব।





















