৮ দিন পর বন্ধ হল কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট

৮ দিন পর বন্ধ হল কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট
এম. মঈন উদ্দীন, রাঙামাটি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৯টার দিকে গেটগুলো বন্ধ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান।
এ সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ৯৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।
পরে ওইদিন রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়েছিলো।
৩০ আগষ্ট  সকাল ১০ টা থেকে  স্পিলওয়ের ১৬টি গেট  তিনফুট খুলে দিয়ে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হয়েছিলো।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু ডুবে যায়,  তলিয়ে যায়  বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
গত কয়েকদিনে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমতে থাকায় রোববার রাত ৯টায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পানি নিষ্কাশন অব্যাহত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়,  কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও স্পিলওয়ের গেট খোলা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৫৬ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।
এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি বয়ে যেতে পারে। শুরুর দিকে এর ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয়
অষ্টগ্রাম হাওরে শীতের আগমনী বার্তা, প্রকৃতিতে ঋতু বদলের ছোঁয়া

অষ্টগ্রাম হাওরে শীতের আগমনী বার্তা, প্রকৃতিতে ঋতু বদলের ছোঁয়া

৮ দিন পর বন্ধ হল কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এম. মঈন উদ্দীন, রাঙামাটি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৯টার দিকে গেটগুলো বন্ধ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান।
এ সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ৯৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।
পরে ওইদিন রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়েছিলো।
৩০ আগষ্ট  সকাল ১০ টা থেকে  স্পিলওয়ের ১৬টি গেট  তিনফুট খুলে দিয়ে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হয়েছিলো।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু ডুবে যায়,  তলিয়ে যায়  বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল।
গত কয়েকদিনে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমতে থাকায় রোববার রাত ৯টায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পানি নিষ্কাশন অব্যাহত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়,  কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও স্পিলওয়ের গেট খোলা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৫৬ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।
এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি বয়ে যেতে পারে। শুরুর দিকে এর ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
বিজ্ঞাপন