নেত্রকোনা সীমান্তে ৮ মাসে বিজিবি’র অভিযানে ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

নেত্রকোনা সীমান্তে ৮ মাসে বিজিবি’র অভিযানে ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
বিজয় চন্দ্র দাস,নেত্রকোনা :২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৮ মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে। দুই দেশের সীমান্তে চোরাচালান তুলনামূলকভাবে কমলেও একেবারে থেমে যায়নি।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জানান, দুই দেশের চোরাচালান সম্পর্কে অবহিত আছে সীমান্তের বিজিবি।আমাদের সীমান্তজুড়ে রয়েছে প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা। এই এলাকায় নজরদারির জন্য রয়েছে মাত্র ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি)। তবু এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিজিবি জোয়ানরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। তারা নিষ্টাঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
জেলার সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন,অবৈধ অস্ত্র, ভারতীয় মাদক চোরাচালানসহ সীমান্ত রক্ষায় সর্বদাই তৎপর রয়েছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবি। একদিকে প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট ও রাস্তাঘাট না থাকায়, অপরদিকে বিশাল দুর্গম এলাকা পাহারা দেয়া অত্যন্ত কঠিন। তারপরও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩১ বিজিবি সজাগ ভুমিকা রাখছে।
অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তে সীমিত জনবলের কারনে বিজিবির জোয়ানদের উপেক্ষা করে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্ডাডল, গাঁজা, গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেল, শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ নানা ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাচার হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে তা অনেকটাই কমে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী,গত জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে।২৯৮৬ বোতল ভারতীয় মদ, ৬০ বোতল বিয়ার ক্যান, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৪৯ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ৮৪ পিস ট্যাপেন্ডাডল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৪ শত ২০ টাকা।
দুই দেশের সীমান্তে অন্যান্য চোরাচালানের মধ্যে রয়েছে গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেলস্, শাড়ি লেহেঙ্গা ও প্রসাধনী সামগ্রী। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১০ কোটি ৪৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৬ শত ৪০ টাকা। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য ১০ কোটি ৯২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫ শত ৬০ টাকা।এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকায় দায়ে ১৭ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।
 তিনি আরো জানান, অভিযানের পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সচেতন মহলের দাবি, জেলার দুই দেশের সীমান্তে মাঝে মাঝে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন করলে একদিকে যেমন চোরাচালান বন্ধ হবে। অপরদিকে দুই দেশের সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয়
ফেনী সদর উপজেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

ফেনী সদর উপজেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

নেত্রকোনা সীমান্তে ৮ মাসে বিজিবি’র অভিযানে ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজয় চন্দ্র দাস,নেত্রকোনা :২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৮ মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে। দুই দেশের সীমান্তে চোরাচালান তুলনামূলকভাবে কমলেও একেবারে থেমে যায়নি।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জানান, দুই দেশের চোরাচালান সম্পর্কে অবহিত আছে সীমান্তের বিজিবি।আমাদের সীমান্তজুড়ে রয়েছে প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা। এই এলাকায় নজরদারির জন্য রয়েছে মাত্র ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি)। তবু এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিজিবি জোয়ানরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। তারা নিষ্টাঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
জেলার সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন,অবৈধ অস্ত্র, ভারতীয় মাদক চোরাচালানসহ সীমান্ত রক্ষায় সর্বদাই তৎপর রয়েছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবি। একদিকে প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট ও রাস্তাঘাট না থাকায়, অপরদিকে বিশাল দুর্গম এলাকা পাহারা দেয়া অত্যন্ত কঠিন। তারপরও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩১ বিজিবি সজাগ ভুমিকা রাখছে।
অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তে সীমিত জনবলের কারনে বিজিবির জোয়ানদের উপেক্ষা করে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্ডাডল, গাঁজা, গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেল, শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ নানা ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাচার হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে তা অনেকটাই কমে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী,গত জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে।২৯৮৬ বোতল ভারতীয় মদ, ৬০ বোতল বিয়ার ক্যান, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৪৯ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ৮৪ পিস ট্যাপেন্ডাডল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৮ লক্ষ ২৩ হাজার ৪ শত ২০ টাকা।
দুই দেশের সীমান্তে অন্যান্য চোরাচালানের মধ্যে রয়েছে গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ঔষধ, বাশঁ, কয়লা, চিপস্, ক্যামিকেলস্, শাড়ি লেহেঙ্গা ও প্রসাধনী সামগ্রী। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১০ কোটি ৪৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৬ শত ৪০ টাকা। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য ১০ কোটি ৯২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫ শত ৬০ টাকা।এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকায় দায়ে ১৭ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।
 তিনি আরো জানান, অভিযানের পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সচেতন মহলের দাবি, জেলার দুই দেশের সীমান্তে মাঝে মাঝে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন করলে একদিকে যেমন চোরাচালান বন্ধ হবে। অপরদিকে দুই দেশের সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বন্দর স্থাপন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন