আইফোনই কি অপ্রতিম হত্যার কারণ?

আইফোনই কি অপ্রতিম হত্যার কারণ?

মোঃ ইহসানুল হক সাকিব, কুবি প্রতিনিধিঃ

স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ, যারা স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

ঘটনার পূর্বাপর : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সামাজিক মাধ্যম ও মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে দেশজুড়ে অপ্রতিমের সন্ধানে আকুতি জানায় তার পরিবার। নিখোঁজের একদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন বিনোদন পার্ক ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’-এর পাশের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলে তার লাশ। উদ্ধার হওয়া স্থানটি অপ্রতিমদের নিজ বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। প্রথমে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। পরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

মৃতদেহ উদ্ধারের পর কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

নিহত অপ্রতিমের অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সামাজিক মাধ্যমে এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে সারা দেশ। একখণ্ড যন্ত্রের জন্য একটি প্রাণবন্ত শিশুর নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে।

জনপ্রিয়
অপ্রতিম হত্যায় নতুন যে তথ্য দিলেন বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষিকা

অপ্রতিম হত্যায় নতুন যে তথ্য দিলেন বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষিকা

আইফোনই কি অপ্রতিম হত্যার কারণ?

আপডেট সময় : ০২:০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ ইহসানুল হক সাকিব, কুবি প্রতিনিধিঃ

স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ, যারা স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

ঘটনার পূর্বাপর : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। সামাজিক মাধ্যম ও মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে দেশজুড়ে অপ্রতিমের সন্ধানে আকুতি জানায় তার পরিবার। নিখোঁজের একদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন বিনোদন পার্ক ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’-এর পাশের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলে তার লাশ। উদ্ধার হওয়া স্থানটি অপ্রতিমদের নিজ বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। প্রথমে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। পরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

মৃতদেহ উদ্ধারের পর কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

নিহত অপ্রতিমের অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সামাজিক মাধ্যমে এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে সারা দেশ। একখণ্ড যন্ত্রের জন্য একটি প্রাণবন্ত শিশুর নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে।