তালগাছ কমায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির ঐতিহ্যবাহী বাসা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বাবুই পাখির বাসা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বাবুই পাখির বাসা

ছবি: প্রতিবেদক

মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)

কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা। একসময় গ্রামের তালগাছজুড়ে ঝুলে থাকত বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা। পাখিটির নিপুণভাবে তৈরি বাসা ছিল গ্রামীণ প্রকৃতির অন্যতম সৌন্দর্য। সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

বাবুই পাখির বাসা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন নানা কবিতা ও গান। বাসা তৈরির অসাধারণ দক্ষতার কারণে বাবুই পাখিকে অনেকেই ‘কারিগর পাখি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কবি রজনীকান্ত সেন তাঁর ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতায়ও বাবুই পাখির কথা তুলে ধরেছেন।

ছবিটি শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত লক্ষ্মীধরপাড়া গ্রাম থেকে পাঠিয়েছেন সিটি পোস্টের রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি মাসুদ রানা মনি।

একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি তালগাছেই দেখা মিলত বাবুই পাখির বাসা। ঝুলন্ত বাসাগুলো বাতাসে দুলত আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত চারপাশ। কিন্তু এখন সেই চেনা দৃশ্য আর তেমন চোখে পড়ে না।

স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন কারণে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাবুই পাখির আবাসস্থলও সংকুচিত হয়েছে। ফলে আগের মতো বাবুই পাখির দেখা মেলে না। হারিয়ে যেতে বসেছে পাখিটির শৈল্পিক বাসাও।

প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা বাবুই পাখির বাসা একসময় ছিল বাংলার চিরচেনা দৃশ্য। এখন সংরক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো প্রকৃতিতে নয়, জাদুঘরেই বাবুই পাখির বাসা দেখতে পাবে—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।

 

জনপ্রিয়
প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

তালগাছ কমায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির ঐতিহ্যবাহী বাসা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বাবুই পাখির বাসা

আপডেট সময় : ১১:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)

কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা। একসময় গ্রামের তালগাছজুড়ে ঝুলে থাকত বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা। পাখিটির নিপুণভাবে তৈরি বাসা ছিল গ্রামীণ প্রকৃতির অন্যতম সৌন্দর্য। সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

বাবুই পাখির বাসা নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন নানা কবিতা ও গান। বাসা তৈরির অসাধারণ দক্ষতার কারণে বাবুই পাখিকে অনেকেই ‘কারিগর পাখি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কবি রজনীকান্ত সেন তাঁর ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতায়ও বাবুই পাখির কথা তুলে ধরেছেন।

ছবিটি শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত লক্ষ্মীধরপাড়া গ্রাম থেকে পাঠিয়েছেন সিটি পোস্টের রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি মাসুদ রানা মনি।

একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি তালগাছেই দেখা মিলত বাবুই পাখির বাসা। ঝুলন্ত বাসাগুলো বাতাসে দুলত আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত চারপাশ। কিন্তু এখন সেই চেনা দৃশ্য আর তেমন চোখে পড়ে না।

স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন কারণে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাবুই পাখির আবাসস্থলও সংকুচিত হয়েছে। ফলে আগের মতো বাবুই পাখির দেখা মেলে না। হারিয়ে যেতে বসেছে পাখিটির শৈল্পিক বাসাও।

প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা বাবুই পাখির বাসা একসময় ছিল বাংলার চিরচেনা দৃশ্য। এখন সংরক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো প্রকৃতিতে নয়, জাদুঘরেই বাবুই পাখির বাসা দেখতে পাবে—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।