গ্রাম-শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট: যাত্রী নিরাপত্তায় ‘ইউনিয়ন ভিত্তিক’ নম্বর প্লেটের দাবি

গ্রাম-শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট: যাত্রী নিরাপত্তায় ‘ইউনিয়ন ভিত্তিক’ নম্বর প্লেটের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্রাম থেকে শহর, অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়ক—যেদিকেই তাকানো যায়, চোখ পড়ে শুধু ইজিবাইক, টমটম কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশা। গণপরিবহনের সংকট দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এই বাহনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে তা চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ, রুট পারমিট ও চালকদের প্রশিক্ষণ না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় এই বাহনগুলোকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে, সুনির্দিষ্ট ‘আইডেন্টিফাই’ বা সঠিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও পথচারীদের প্রধান চাওয়া—সড়কে একটু নিরাপদ চলাচল এবং জীবনের নিরাপত্তা। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কিংবা পৌরসভা এলাকায় টমটম বা ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হলেও, ইউনিয়ন পর্যায়ে এর কোনো বালাই নেই।

গ্রামাঞ্চলে চলাচলকারী এই লাখ লাখ বাহনের কোনো সঠিক হিসাব বা আইনি বৈধতার নথি নেই

সচেতন মহলের মতে, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মতো প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও যদি নিজ নিজ এলাকার অটোরিকশা ও টমটমগুলোকে একটি করে নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট ও চালকদের ডাটাবেজ দেওয়া হতো, তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অনেকটাই সহজ হতো।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনভিজ্ঞ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা যে যার খুশি মতো বেপরোয়া গতিতে এই বাহনগুলো চালাচ্ছে।

অধিকাংশ চালকেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ওস্তাদ বা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেই। ফলে প্রতিনিয়ত অঘটন ও দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো, গ্রামীণ সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বা কাউকে চাপা দিয়ে চালক পালিয়ে গেলে তাকে চেনার কোনো উপায়
থাকে না।

কারণ বাহনটির কোনো নম্বর প্লেট বা ‘হাদিস’ (পরিচয়) নেই। নম্বর প্লেট থাকলে অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।”

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে এগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করে লাইসেন্স বা নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।

একই সাথে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
কুড়িগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পৌর কর্মচারীকে হত্যা, আটক-১

কুড়িগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পৌর কর্মচারীকে হত্যা, আটক-১

গ্রাম-শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট: যাত্রী নিরাপত্তায় ‘ইউনিয়ন ভিত্তিক’ নম্বর প্লেটের দাবি

আপডেট সময় : ১০:৩২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্রাম থেকে শহর, অলিগলি থেকে শুরু করে মহাসড়ক—যেদিকেই তাকানো যায়, চোখ পড়ে শুধু ইজিবাইক, টমটম কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশা। গণপরিবহনের সংকট দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এই বাহনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে তা চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ, রুট পারমিট ও চালকদের প্রশিক্ষণ না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় এই বাহনগুলোকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে, সুনির্দিষ্ট ‘আইডেন্টিফাই’ বা সঠিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও পথচারীদের প্রধান চাওয়া—সড়কে একটু নিরাপদ চলাচল এবং জীবনের নিরাপত্তা। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কিংবা পৌরসভা এলাকায় টমটম বা ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হলেও, ইউনিয়ন পর্যায়ে এর কোনো বালাই নেই।

গ্রামাঞ্চলে চলাচলকারী এই লাখ লাখ বাহনের কোনো সঠিক হিসাব বা আইনি বৈধতার নথি নেই

সচেতন মহলের মতে, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মতো প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও যদি নিজ নিজ এলাকার অটোরিকশা ও টমটমগুলোকে একটি করে নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট ও চালকদের ডাটাবেজ দেওয়া হতো, তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অনেকটাই সহজ হতো।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনভিজ্ঞ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা যে যার খুশি মতো বেপরোয়া গতিতে এই বাহনগুলো চালাচ্ছে।

অধিকাংশ চালকেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ওস্তাদ বা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেই। ফলে প্রতিনিয়ত অঘটন ও দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো, গ্রামীণ সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বা কাউকে চাপা দিয়ে চালক পালিয়ে গেলে তাকে চেনার কোনো উপায়
থাকে না।

কারণ বাহনটির কোনো নম্বর প্লেট বা ‘হাদিস’ (পরিচয়) নেই। নম্বর প্লেট থাকলে অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।”

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে এগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করে লাইসেন্স বা নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।

একই সাথে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।