তাড়াইলে তীব্র এলপিজির সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

তাড়াইলে তীব্র এলপিজির সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাজারগুলোতে
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও ১২ কেজির বোতল মিলছে না। এতে বাসাবাড়ির গ্রাহক, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কোথাও মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাড়তি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আগে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়ার সুযোগ ছিল। বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেটিও বন্ধ।
তাড়াইল সদর বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এনজিও চাকরিজীবী সুচনা রাণী ঘোষ। তিনি জানান, তাড়াইল বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। রান্নাবান্নার জন্য এলপিজির বোতল পাচ্ছি না। রান্নার জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে। সুচনা রাণী ঘোষের মতো তাড়াইলের অনেক ভাড়াটিয়া ও সাধারণ পরিবার একই সমস্যায় পড়েছেন। দোকানে গেলেই বলা হচ্ছে-গ্যাস নেই। আর যেখানে মিলছে, সেখানে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সমস্যা আরও বেশি। কারণ তাদের লাকড়ির চুলা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেই। গ্যাস না থাকলে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পরিবার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও চায়ের দোকানিরা।
তাড়াইল সদর বাজারের বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আব্দুল আহাদ বলেন,
সরবরাহ বন্ধ থাকায় খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছে, তাদের এলপিজি দিতে পারছি না— এটা শুধু তাড়াইলের এক দোকানের সমস্যা নয়, এটা এখন সারা দেশের বসুন্ধরাসহ এলপিজি সরবরাহ সংকটেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বসুন্ধরা এলপিজির আমদানি অনেক কমে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে আমদানি ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে, প্রায় ৯৩% কম।
এদিকে গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার মিলছে না।
তাড়াইলের ভোক্তারা বলছেন, দাম শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাজারে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানো অতীব জরুরি।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
কমলগঞ্জে পানিতে ডুবে নিহত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান

কমলগঞ্জে পানিতে ডুবে নিহত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান

তাড়াইলে তীব্র এলপিজির সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

আপডেট সময় : ১২:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাজারগুলোতে
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও ১২ কেজির বোতল মিলছে না। এতে বাসাবাড়ির গ্রাহক, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কোথাও মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাড়তি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আগে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়ার সুযোগ ছিল। বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেটিও বন্ধ।
তাড়াইল সদর বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এনজিও চাকরিজীবী সুচনা রাণী ঘোষ। তিনি জানান, তাড়াইল বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। রান্নাবান্নার জন্য এলপিজির বোতল পাচ্ছি না। রান্নার জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে। সুচনা রাণী ঘোষের মতো তাড়াইলের অনেক ভাড়াটিয়া ও সাধারণ পরিবার একই সমস্যায় পড়েছেন। দোকানে গেলেই বলা হচ্ছে-গ্যাস নেই। আর যেখানে মিলছে, সেখানে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সমস্যা আরও বেশি। কারণ তাদের লাকড়ির চুলা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেই। গ্যাস না থাকলে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পরিবার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও চায়ের দোকানিরা।
তাড়াইল সদর বাজারের বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আব্দুল আহাদ বলেন,
সরবরাহ বন্ধ থাকায় খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছে, তাদের এলপিজি দিতে পারছি না— এটা শুধু তাড়াইলের এক দোকানের সমস্যা নয়, এটা এখন সারা দেশের বসুন্ধরাসহ এলপিজি সরবরাহ সংকটেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বসুন্ধরা এলপিজির আমদানি অনেক কমে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে আমদানি ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে, প্রায় ৯৩% কম।
এদিকে গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার মিলছে না।
তাড়াইলের ভোক্তারা বলছেন, দাম শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাজারে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানো অতীব জরুরি।
বিজ্ঞাপন