কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে হত্যা:গ্রেপ্তার ৩

কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে হত্যা:গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডালিয়া আক্তার সুমাকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিছক চুরির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী লিজা আক্তার। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দিয়ে অন্য কেউ তাঁর মাকে হত্যা করিয়েছে। তাঁদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করলেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় জানা যেতে পারে।

অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় তাঁদের বাইরে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকার সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলার নিজ ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশিক (২৩), আলমগীর হোসেন (৩৬) ও অনিক (১৯)। তাঁদের মধ্যে অনিক পেশায় দর্জি ছিলেন। যে ভবনের ফ্ল্যাটে সুমাকে হত্যা করা হয়, সেই ভবনের নিচে পাশেই তাঁর টেইলার্সের দোকান ছিল। আশিকের কসমেটিকসের ব্যবসা ছিল। তবে বর্তমানে তিনি বেকার। আলমগীরও একসময় ছোটখাটো ব্যবসা করলেও বর্তমানে বেকার। ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তিনজনই নেশাগ্রস্ত। তাঁরা সুমার পূর্বপরিচিত ছিলেন।
মেয়ের অভিযোগ, ঘর থেকে কিছু খোয়া যায়নি
নিহতের মেয়ের অভিযোগ, তাঁর মাকে হত্যার পেছনে শুধু চুরির উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ রয়েছে। তারাই গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের মেয়ের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজগর হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁদের বাইরে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, চুরির সময় ধরা পড়ে হত্যা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সুমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সকালে গৃহকর্মীর প্রবেশের জন্য তিনি দরজা খোলা রাখতেন—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল। এ সুযোগে তাঁরা পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এ সময় সুমা জেগে উঠে তাঁদের দেখে চিৎকার করলে তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর আশিক ও আলমগীর পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। অনিক বোরকা পরে ফ্ল্যাটের মূল প্রবেশপথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের বালুর মাঠ থেকে বোরকার অংশবিশেষ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে অনিককে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বালুরচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশিক ও আলমগীরকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ২৪ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফেনীতে নবযোগদানকৃত শিক্ষকদেরকে  বরণ ও সংবর্ধনা প্রদান

ফেনীতে নবযোগদানকৃত শিক্ষকদেরকে বরণ ও সংবর্ধনা প্রদান

কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে হত্যা:গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডালিয়া আক্তার সুমাকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিছক চুরির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী লিজা আক্তার। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দিয়ে অন্য কেউ তাঁর মাকে হত্যা করিয়েছে। তাঁদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করলেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় জানা যেতে পারে।

অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় তাঁদের বাইরে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকার সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলার নিজ ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়া আক্তার সুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশিক (২৩), আলমগীর হোসেন (৩৬) ও অনিক (১৯)। তাঁদের মধ্যে অনিক পেশায় দর্জি ছিলেন। যে ভবনের ফ্ল্যাটে সুমাকে হত্যা করা হয়, সেই ভবনের নিচে পাশেই তাঁর টেইলার্সের দোকান ছিল। আশিকের কসমেটিকসের ব্যবসা ছিল। তবে বর্তমানে তিনি বেকার। আলমগীরও একসময় ছোটখাটো ব্যবসা করলেও বর্তমানে বেকার। ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তিনজনই নেশাগ্রস্ত। তাঁরা সুমার পূর্বপরিচিত ছিলেন।
মেয়ের অভিযোগ, ঘর থেকে কিছু খোয়া যায়নি
নিহতের মেয়ের অভিযোগ, তাঁর মাকে হত্যার পেছনে শুধু চুরির উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ রয়েছে। তারাই গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের মেয়ের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজগর হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁদের বাইরে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, চুরির সময় ধরা পড়ে হত্যা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সুমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সকালে গৃহকর্মীর প্রবেশের জন্য তিনি দরজা খোলা রাখতেন—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল। এ সুযোগে তাঁরা পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এ সময় সুমা জেগে উঠে তাঁদের দেখে চিৎকার করলে তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর আশিক ও আলমগীর পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। অনিক বোরকা পরে ফ্ল্যাটের মূল প্রবেশপথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের বালুর মাঠ থেকে বোরকার অংশবিশেষ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে অনিককে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বালুরচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশিক ও আলমগীরকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ২৪ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।