ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশের তারিখ ভুল উল্লেখ, বিভাগভিত্তিক ন্যূনতম জিপিএ স্পষ্ট না করা, পার্শ্ববর্তী সরকারি কলেজের তুলনায় বেশি ভর্তি ফি নির্ধারণ এবং শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। অথচ বিজ্ঞপ্তিটি দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত হওয়ায় তারিখটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হওয়ার কথা। বিজ্ঞপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিতে এক বছরের ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করা দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের ভুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
ভালুকা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাবর্ষ, ভর্তির সময়সূচি, ফি পরিশোধের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির ওপরের অংশে প্রকাশের তারিখ ভুলভাবে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ লেখা হয়েছে।
অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কমিটি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা যথাযথভাবে যাচাই করেছেন কি না।
তাঁদের মতে, একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভুল তথ্য থাকলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি সাধারণ মুদ্রণপ্রমাদ হলেও দ্রুত সংশোধনী প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভালুকা সরকারি কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ, ভর্তি ফির পরিমাণ এবং পাঠদানের সক্ষমতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কলেজটির অনুমোদিত আসনসংখ্যা ১ হাজার ১০০ হলেও শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক জনবলের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পাশের ত্রিশালের সরকারি নজরুল কলেজের তুলনায় ভালুকা সরকারি কলেজের ভর্তি ফি বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম জিপিএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল কি না, আসনসংখ্যা নির্ধারণে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না এবং ফির পার্থক্যের ভিত্তি কী-এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি ৪ হাজার ৩৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ত্রিশালের সরকারি নজরুল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
এই হিসাবে ভালুকা সরকারি কলেজের ভর্তি ফি বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় ৮৩০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় ১ হাজার ২৩০ টাকা বেশি। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণের খাত, প্রযোজ্য চার্জ ও অন্যান্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু সরকারি দুই কলেজে ভর্তি ফির এমন পার্থক্যের কারণ কী, কোন কোন খাতে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত ফির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের জবাবে কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু উত্তর দিতে পারে নি।
ভর্তি ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনম শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ভর্তি কমিটি ও উপাধ্যক্ষের কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, ভর্তি বাবদ নেওয়া অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে জমা হয় এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে না।
ভালুকা সরকারি কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগভিত্তিক ন্যূনতম জিপিএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যে, ত্রিশালের সরকারি নজরুল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম জিপিএ ৪.২৫ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪.০০ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ভালুকা সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে ৩.০০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২.৫০ জিপিএর উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশালের সরকারি নজরুল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য ন্যূনতম জিপিএ চার দশমিক দুই পাঁচ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে চার দশমিক শূন্য শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভালুকা সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে তিন দশমিক শূন্য শূন্য এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে দুই দশমিক পাঁচ শূন্য জিপিএ নির্ধারিত থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করলেও তা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কেন।
ভালুকা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান তুহিন বলেন, একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে যে জিপিএ নির্ধারণ করা থাকে, তার নিচে থাকা কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারে না। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ভবিষ্যতে সব বিভাগেই জিপিএর ন্যূনতম পয়েন্ট বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.০০ জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপাধ্যক্ষের ভাষ্য, জিপিএ বেশি নির্ধারণ করলে শিক্ষার্থীর মান বিবেচনায় সুবিধা হতে পারে, আবার আসনও খালি থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে কম জিপিএ নির্ধারণ করলে এলাকার অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেতে পারে। আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম পয়েন্ট উল্লেখ করা প্রয়োজন। নীতিমালাতেও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। ভালুকা সরকারি কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে পয়েন্ট উল্লেখ না করা হয়ে থাকলে সেটি ভুল হয়েছে।
তবে তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন ভর্তি সফটওয়্যারে নির্ধারিত জিপিএর নিচে থাকা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পায় না।
ভর্তি কার্যক্রমের পাশাপাশি ভালুকা সরকারি কলেজের পাঠদানের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে একাদশ শ্রেণির অনুমোদিত আসনসংখ্যা এক হাজার একশ। অথচ বর্তমানে সরকারি শিক্ষকসহ প্রায় চব্বিশ থেকে ত্রিশজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। অতিথি ও খণ্ডকালীন শিক্ষক যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় পঁয়ত্রিশ।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অফিস সুবিধা ও প্রশাসনিক জনবলের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ।
এ অবস্থায় অভিভাবকদের প্রশ্ন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান নিশ্চিত করতে কলেজটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে কি না।
ভালুকা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনম শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কলেজে শিক্ষক সংকট রয়েছে-এটি সত্য। শিক্ষক চেয়ে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা ও চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কলেজটি সরকারি হওয়ার পর ধীরে ধীরে ক্যাডার শিক্ষক দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষক পেয়েছেন এবং আরও শিক্ষক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, শিক্ষক না থাকলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পার্টটাইম শিক্ষক নেওয়া হচ্ছে। সরকারি শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও পার্টটাইম শিক্ষক মিলিয়ে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু ভালুকা সরকারি কলেজ নয়, নতুন সরকারি হওয়া অনেক কলেজেই শিক্ষক ও জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনম শাহাদাৎ হোসেন জানান, কলেজের শিক্ষকরা সরকারি হলেও এখনো সব কর্মচারী সরকারি কাঠামোর আওতায় আসেননি। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কলেজ সরকারি হওয়ার পরও শিক্ষক-কর্মচারী, অফিস, শ্রেণিকক্ষসহ অবকাঠামোগত নানা সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে তারা নিয়মিত চেষ্টা করছেন। অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজে পর্যাপ্ত অফিস সুবিধাও নেই। বড় সরকারি কলেজগুলোর মতো আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো ও পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় শিক্ষকদেরই বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালুকা সরকারি কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গও ওঠে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে আসে না বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কলেজে শিক্ষক, কর্মচারী ও শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি কলেজে আবাসিক হোস্টেলও নেই। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কলেজটির অনুমোদিত আসনসংখ্যা এক হাজার একশ হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আসন নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষকসংখ্যা, শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা, বিভাগভিত্তিক প্রয়োজন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই কি কলেজটির আসনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে?
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল্লাহ বলেন, কলেজের আসনসংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে কলেজগুলোর আসনসংখ্যা বাড়ানো হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে আসন সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা উল্লেখ করে কোনো কলেজ আসন কমানোর আবেদন করলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। ভালুকা সরকারি কলেজের আসন সমন্বয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আবেদন এসেছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এদিকে শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেই কলেজটিতে নতুন কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তবে নতুন বিষয়ে পাঠদান শুরু হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষা-উপকরণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভুল সাল, ন্যূনতম জিপিএ স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা, সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে ভর্তি ফির পার্থক্য এবং শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট-সব মিলিয়ে ভালুকা সরকারি কলেজের ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকদের দাবি, ভর্তি বিজ্ঞপ্তির ভুল তারিখ দ্রুত সংশোধন, ভর্তি ফির খাত ভিত্তিক হিসাব প্রকাশ, বিভাগ ভিত্তিক ন্যূনতম জিপিএ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান এবং শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও প্রশাসনিক জনবলের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। একদিকে বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া, অন্যদিকে শিক্ষার মান বজায় রাখা-দুই বিষয়েই ভারসাম্য প্রয়োজন।
ভালুকা সরকারি কলেজের বর্তমান পরিস্থিতিতে ১১০০ অনুমোদিত আসনের বিপরীতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষ ও কর্মচারীর ঘাটতির বিষয়টিও কলেজ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে।





















