হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ৫৫ বিজিবির তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় কার্যকর

হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ৫৫ বিজিবির তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ:

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জ জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পূজারি এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এ লক্ষ্যে দিবা-রাত্রি নিরবিচ্ছিন্ন টহল, নিবিড় নজরদারি, বিশেষ মোবাইল টিমের কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আওতায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ০৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ০৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রচলিত নিরাপত্তা কৌশলের পাশাপাশি আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হচ্ছে।
আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান, বিজিওএম চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগান পূজামন্ডপ এবং মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। এ উৎসব যেন সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এর আওতায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার বন্ধের পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় দিবা-রাত্রি নিরবচ্ছিন্ন টহল, নিবিড় নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ মোবাইল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
পূজা উদযাপন কমিটি ও সর্বসাধারণকে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ ও যেকোনো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে ৫৫ বিজিবি।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
মাদারীপুরে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মতবিনিময় সভা, জনসমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ জলিল

মাদারীপুরে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মতবিনিময় সভা, জনসমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ জলিল

হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ৫৫ বিজিবির তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় কার্যকর

আপডেট সময় : ১০:৪২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ:

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জ জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পূজারি এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এ লক্ষ্যে দিবা-রাত্রি নিরবিচ্ছিন্ন টহল, নিবিড় নজরদারি, বিশেষ মোবাইল টিমের কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আওতায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ০৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ০৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রচলিত নিরাপত্তা কৌশলের পাশাপাশি আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হচ্ছে।
আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান, বিজিওএম চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগান পূজামন্ডপ এবং মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। এ উৎসব যেন সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এর আওতায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার বন্ধের পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় দিবা-রাত্রি নিরবচ্ছিন্ন টহল, নিবিড় নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ মোবাইল টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
পূজা উদযাপন কমিটি ও সর্বসাধারণকে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ ও যেকোনো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে ৫৫ বিজিবি।