লুঙ্গি পরে পুলিশের অভিযান,ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারির সহযোগী

লুঙ্গি পরে পুলিশের অভিযান,ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারির সহযোগী
মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চিহ্নিত এক মাদক কারবারির সহযোগীকে আটক করতে ব্যতিক্রমী কৌশল অবলম্বন করেছে পুলিশ। লুঙ্গি পরে সাধারণ মানুষের বেশে প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাশেম মিয়া নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম হাটী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক কাশেম মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম হাটী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর ও কনস্টেবল প্রদ্যুৎ লুঙ্গি পরে সাধারণ মানুষের বেশে আগে ওই এলাকায় যান। পরে পুলিশের অন্য সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান চালিয়ে কাশেম মিয়াকে আটক করেন। এ সময় তাঁর হেফাজতে থাকা একটি জিপার ব্যাগ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, নুরুন্নবী নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন কাশেম মিয়া। নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি পুলিশ। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় লোকজনও পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।
অভিযানের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাশেমকে আটক করতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। এসআই শেখর ও কনস্টেবল প্রদ্যুৎকে লুঙ্গি পরিয়ে সাধারণ মানুষের বেশে আগে ওই এলাকায় পাঠানো হয়। আমরা অন্য সদস্যরা কৌশলগত অবস্থানে অপেক্ষা করছিলাম। পরে কাশেমকে আটক করে তাঁর হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের দুর্গমতা তুলে ধরে ওসি বলেন, কটিয়াদী থানা থেকে ঘটনাস্থল প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে। মূল সড়ক থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে হেঁটে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে অভিযান চালাতে হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমি কটিয়াদী থানায় যত দিন দায়িত্বে থাকব, তত দিন মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কটিয়াদী থেকে মাদক নির্মূল করতে চাই। এ কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক কাশেম মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিহ্নিত মাদক কারবারি নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
কটিয়াদী ও মনোহরদী আড়িয়াল খাঁর ৫ কিমি নদজুড়ে ২০টি জালের বাঁধ, ধ্বংস হচ্ছে মৎস্যসম্পদ ও জলজ প্রাণী 

কটিয়াদী ও মনোহরদী আড়িয়াল খাঁর ৫ কিমি নদজুড়ে ২০টি জালের বাঁধ, ধ্বংস হচ্ছে মৎস্যসম্পদ ও জলজ প্রাণী 

লুঙ্গি পরে পুলিশের অভিযান,ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারির সহযোগী

আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চিহ্নিত এক মাদক কারবারির সহযোগীকে আটক করতে ব্যতিক্রমী কৌশল অবলম্বন করেছে পুলিশ। লুঙ্গি পরে সাধারণ মানুষের বেশে প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাশেম মিয়া নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম হাটী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক কাশেম মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম হাটী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর ও কনস্টেবল প্রদ্যুৎ লুঙ্গি পরে সাধারণ মানুষের বেশে আগে ওই এলাকায় যান। পরে পুলিশের অন্য সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান চালিয়ে কাশেম মিয়াকে আটক করেন। এ সময় তাঁর হেফাজতে থাকা একটি জিপার ব্যাগ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, নুরুন্নবী নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন কাশেম মিয়া। নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি পুলিশ। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় লোকজনও পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।
অভিযানের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাশেমকে আটক করতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। এসআই শেখর ও কনস্টেবল প্রদ্যুৎকে লুঙ্গি পরিয়ে সাধারণ মানুষের বেশে আগে ওই এলাকায় পাঠানো হয়। আমরা অন্য সদস্যরা কৌশলগত অবস্থানে অপেক্ষা করছিলাম। পরে কাশেমকে আটক করে তাঁর হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের দুর্গমতা তুলে ধরে ওসি বলেন, কটিয়াদী থানা থেকে ঘটনাস্থল প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে। মূল সড়ক থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে হেঁটে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে অভিযান চালাতে হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমি কটিয়াদী থানায় যত দিন দায়িত্বে থাকব, তত দিন মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কটিয়াদী থেকে মাদক নির্মূল করতে চাই। এ কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক কাশেম মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিহ্নিত মাদক কারবারি নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন