দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আসাদুজ্জামান শাহীন এবং সেক্রেটারি পদে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটারদের উপস্থিতি থাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় ভোট গণনা, যা রাত ২টা পর্যন্ত চলে।
রাত ২টার পর নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ভাইস চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি পদে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। তবে তখনও কার্যকরী কমিটির পাঁচটি সদস্য পদের ভোট গণনা চলছিল।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আসাদুজ্জামান শাহীন ১ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ বি এম মোমিনুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬৪ ভোট। অপর প্রার্থী ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট।
সেক্রেটারি পদে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ২ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৭৭৩ ভোট, লুৎফুল হাই ভূইয়া ৪২৮ ভোট, কামরুল ইসলাম ৩৪৯ ভোট এবং অ্যাডভোকেট শাহ ওয়াসিম পারভেজ ২৭৮ ভোট।
এদিকে কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত পাঁচজন হলেন—সাইদ হাসান সানি, আশিকুল ইসলাম সুমন, রুমেল উদ্দিন আহমেদ, তানভীর রুবেল ও মহিবুল ইসলাম ডিকন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও পাঁচটি সদস্য পদে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সেক্রেটারি পদে পাঁচজন এবং পাঁচটি সদস্য পদে ৩৭ জন প্রার্থী ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১০ হাজার ৬৪৫ জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৬৬ জন আজীবন সদস্য এবং ১ হাজার ১৭৯ জন বার্ষিক সদস্য। মোট ৪ হাজার ১৬২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশররফ হোসেন এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।




















