সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • 63
সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:- অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ঐতিহাসিক টাইগার পাস চত্বরে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শিবির আহমেদ ওসমান-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের উপদেষ্টা নুরুল আবছার তৌহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ফৌজুল আজাদ চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা ছিলেন মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফীন।

বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর যথাযথ তদন্ত ছাড়া একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়ম ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁকে পুলিশি হেফাজতে মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও তোলা হয়।
প্রধান অতিথি নুরুল আবছার তৌহিদ বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধ করতে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান বক্তা সোহাগ আরেফীন বলেন, কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রথমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের আগেই মামলা ও গ্রেপ্তার স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত এবং এটি ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করবে।

সভাপতির বক্তব্যে শিবির আহমেদ ওসমান বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত ছিল। তদন্তের আগেই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা কতটা আইনসম্মত ও ন্যায়সংগত, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর সাংবাদিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মিজান উল্লাহ সমরকান্দী, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি কেএম রুবেল, একাত্তর সংবাদের সম্পাদক সুমন সেন, আজকের মানব সময় পত্রিকার সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বাহার, এসটিভির প্রধান সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সংবাদ সংযোগ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফেনী সদর উপজেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

ফেনী সদর উপজেলায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো:- অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ঐতিহাসিক টাইগার পাস চত্বরে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শিবির আহমেদ ওসমান-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের উপদেষ্টা নুরুল আবছার তৌহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ফৌজুল আজাদ চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা ছিলেন মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফীন।

বক্তারা বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর যথাযথ তদন্ত ছাড়া একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়ম ও কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁকে পুলিশি হেফাজতে মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও তোলা হয়।
প্রধান অতিথি নুরুল আবছার তৌহিদ বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কণ্ঠ রোধ করতে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান বক্তা সোহাগ আরেফীন বলেন, কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রথমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের আগেই মামলা ও গ্রেপ্তার স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত এবং এটি ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করবে।

সভাপতির বক্তব্যে শিবির আহমেদ ওসমান বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত ছিল। তদন্তের আগেই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা কতটা আইনসম্মত ও ন্যায়সংগত, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর সাংবাদিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মিজান উল্লাহ সমরকান্দী, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি কেএম রুবেল, একাত্তর সংবাদের সম্পাদক সুমন সেন, আজকের মানব সময় পত্রিকার সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বাহার, এসটিভির প্রধান সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সংবাদ সংযোগ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।