নিকলীতে সারের সংকট, জমি প্রস্তুত করেও বীজ বুনতে পারছেন না কৃষকেরা

নিকলীতে সারের সংকট, জমি প্রস্তুত করেও বীজ বুনতে পারছেন না কৃষকেরা

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে রবি শস্যের আবাদ মৌসুমের শুরুতেই রাসায়নিক সারের সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। জমি চাষের উপযোগী করে প্রস্তুত করলেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় সময়মতো বীজ বপন করতে পারছেন না অনেকে। এতে ফসলের আবাদ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা।

হাওরে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। পানি নেমে যাওয়ায় উপজেলার অনেক জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। কিন্তু জমি প্রস্তুত করার পরও সারের অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় তাঁদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার দামপাড়া, মজলিসপুর, আহসানপুর, সিংপুর, ভাটিবরাটিয়া, ছেত্রা, পূর্বগ্রাম, জাফরাবাদ ও বেরিবাঁধ হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সারের সংকটের কথা জানা গেছে।

কৃষকেরা জানান, এবার সরিষা, মাসকলাই, আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য চাষের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। তবে স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় জমি প্রস্তুত করেও বীজ বপন করা যাচ্ছে না। এতে জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সময়মতো চাষাবাদ করতে না পারলে ফসলের ফলনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

উপজেলার শহরমূল এলাকার কৃষক মাসুম মিয়া (৪৮) বলেন, তাঁর ২২ একর জমিতে চাষাবাদের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি তিনি। কয়েক দিন পর আসতে বলা হলে সার না নিয়েই ফিরে যেতে হয় তাঁকে।

কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক হারিস আহমেদ (৫০) বলেন, কয়েক দিন আগে জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু ইউরিয়া সার না পাওয়ায় চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। এর মধ্যে মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সার সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রোকন (৩২) ভুট্টা চাষের জন্য আট একর জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সারের অভাবে এখনো বীজ বপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, ডিলারের পক্ষ থেকে সোমবার বা মঙ্গলবার সার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

রোকনের ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারেরা ১৫ কেজি করে সার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দিয়ে কীভাবে চাষাবাদ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে, সারের সংকটের কারণ হিসেবে কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতার কথা বলেছেন ডিলারদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ফসফেট সার ব্যবহার করেন কিছু কৃষক। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ কেজি ব্যবহারের কথা থাকলেও কেউ কেউ ৩০ কেজি বা তারও বেশি প্রয়োগ করেন। এতে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।

সিংপুর ইউনিয়নের বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আজিজুর রহমানের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান বলেন, রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল সামাদ বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সাময়িকভাবে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে নির্ধারিত সময়ে রবি শস্যের আবাদ ব্যাহত হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচের মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়

নিকলীতে সারের সংকট, জমি প্রস্তুত করেও বীজ বুনতে পারছেন না কৃষকেরা

আপডেট সময় : ০৬:০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে রবি শস্যের আবাদ মৌসুমের শুরুতেই রাসায়নিক সারের সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। জমি চাষের উপযোগী করে প্রস্তুত করলেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় সময়মতো বীজ বপন করতে পারছেন না অনেকে। এতে ফসলের আবাদ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা।

হাওরে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। পানি নেমে যাওয়ায় উপজেলার অনেক জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। কিন্তু জমি প্রস্তুত করার পরও সারের অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় তাঁদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার দামপাড়া, মজলিসপুর, আহসানপুর, সিংপুর, ভাটিবরাটিয়া, ছেত্রা, পূর্বগ্রাম, জাফরাবাদ ও বেরিবাঁধ হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সারের সংকটের কথা জানা গেছে।

কৃষকেরা জানান, এবার সরিষা, মাসকলাই, আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য চাষের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। তবে স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় জমি প্রস্তুত করেও বীজ বপন করা যাচ্ছে না। এতে জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সময়মতো চাষাবাদ করতে না পারলে ফসলের ফলনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

উপজেলার শহরমূল এলাকার কৃষক মাসুম মিয়া (৪৮) বলেন, তাঁর ২২ একর জমিতে চাষাবাদের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি তিনি। কয়েক দিন পর আসতে বলা হলে সার না নিয়েই ফিরে যেতে হয় তাঁকে।

কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক হারিস আহমেদ (৫০) বলেন, কয়েক দিন আগে জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু ইউরিয়া সার না পাওয়ায় চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। এর মধ্যে মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সার সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রোকন (৩২) ভুট্টা চাষের জন্য আট একর জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সারের অভাবে এখনো বীজ বপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, ডিলারের পক্ষ থেকে সোমবার বা মঙ্গলবার সার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

রোকনের ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারেরা ১৫ কেজি করে সার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দিয়ে কীভাবে চাষাবাদ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে, সারের সংকটের কারণ হিসেবে কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতার কথা বলেছেন ডিলারদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ফসফেট সার ব্যবহার করেন কিছু কৃষক। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ কেজি ব্যবহারের কথা থাকলেও কেউ কেউ ৩০ কেজি বা তারও বেশি প্রয়োগ করেন। এতে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।

সিংপুর ইউনিয়নের বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আজিজুর রহমানের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান বলেন, রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল সামাদ বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সাময়িকভাবে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে নির্ধারিত সময়ে রবি শস্যের আবাদ ব্যাহত হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচের মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।