সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পুরোদমে চলছে রোপা আমন ধানের আবাদ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করে ধানের চারা রোপণ করছেন। স্বাভাবিক বন্যার পানিতে প্রতিবছর ডুবে যায়—এমন অনেক মাঠেও এবার পানি না ওঠায় রোপা আমনের আবাদ করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়ায় ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ। কৃষকেরা এখনও বিভিন্ন মাঠে চারা রোপণ করছেন। ফলে এবার সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হতে পারে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত যেসব মাঠ স্বাভাবিক বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে, এবার সেসব মাঠে এখনো বন্যার পানি ওঠেনি। তাই বন্যার পানি আর না আসার আশা করে এসব জমিতে আগেভাগেই রোপা আমনের আবাদ শুরু করেছেন তারা।
গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে সেচ দিয়ে পানি দিচ্ছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ দলবেঁধে ধানের চারা রোপণ করছেন।
উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের গোজা, চরবেড়া, রাণীনগর, জগজীবনপুর, আলমের দহ ও আঙ্গারু মাঠে ব্যাপকভাবে রোপা আমনের আবাদ হচ্ছে। এছাড়া বাঙ্গালা ইউনিয়নের মালিপাড়া, রহিমপুর, আফার, মোড়দহ ও গয়হাট্রাসহ উল্লাপাড়া সদর, পূর্ণিমাগাতী, দুর্গানগর ও বড়হর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠেও চলছে চারা রোপণের কাজ।
বেশিরভাগ এলাকায় কৃষকেরা সেচ মেশিনের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে তা চাষের উপযোগী করে নিচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় সেচের পানির মূল্য নগদ টাকায় পরিশোধ না করে উৎপাদিত ফসলের অংশ দেওয়ার চুক্তি করছেন কৃষকেরা। কোথাও সেচ মেশিনের মালিককে ফসলের চার ভাগের এক ভাগ, আবার কোথাও পাঁচ ভাগের এক ভাগ দেওয়ার চুক্তিতে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রোপা আমনের চারার চাহিদা বাড়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের ধানের নিজস্ব বীজতলা তৈরি করেছেন। অনেকে নিজস্ব বীজতলার চারা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ স্থানীয় হাটবাজার ও বীজতলা থেকে পছন্দের জাতের চারা কিনে জমিতে রোপণ করছেন।
স্থানীয়ভাবে এক পণ ধানের চারা সাড়ে ৩৫০ থেকে সাড়ে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কাটারীভোগ জাতের ধানের চারার দাম তুলনামূলক বেশি।
উপজেলার চরবেড়া মাঠে কৃষক মো. আছমত আলী প্রায় সাত বিঘা জমিতে রোপা আমনের চারা লাগানো শুরু করেছেন। তিনি কাটারীভোগ ও ব্রি ধান-৩৯ জাতের নিজস্ব বীজতলা করেছেন। সেখান থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করছেন তিনি।
রহিমপুরের কৃষক মো. হাতেম আলী বলেন, ‘স্বাভাবিক বন্যা হলে এ সময় এসব জমি পানিতে তলিয়ে থাকত। এবার এখনো বন্যা হয়নি। বন্যার পানি আর আসবে না—এমনটা ধরে নিয়ে এসব মাঠে রোপা আমনের আবাদ করছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে রোপা আমনের আবাদ চলছে। আগে রোপণ করা জমিতে কৃষকেরা ইতোমধ্যে এক দফা আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপণ হয়েছে। কৃষকেরা আরও জমিতে চারা লাগাচ্ছেন।
তিনি জানান, পুরো ভাদ্র মাসজুড়েই রোপা আমনের চারা রোপণের সুযোগ রয়েছে। ফলে মৌসুম শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হতে পারে।




















