বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি চক্র দেশের ভিতর এবং বাহিরে থেকে সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার এবারের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার জন্য সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনরা যাতে তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে নিরাপত্তার সাথে সম্পন্ন করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাসচিব বলেন, সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দলের পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি করে পূজা কমিটির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে, “মণ্ডপ কমিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে, পাহাড়ার ব্যবস্থা করতে এবং তাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন মানুষ অর্থনৈতিক সাবলম্বী হতে হলে তাকে শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। যদি সে নূণ্যতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারে তাহলে বঞ্চনার শিকার হতে হয়, প্রতারণার শিকার হতে হয়। সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এর প্রসারের জন্য যে কাজ করে তিনি অত্যান্ত মহতী ব্যক্তি বলে আমি মনেকরি।
তিনি বলেন, এই স্কুলে এসে, বিস্তৃত মাঠ দেখে আমার সেটাই মনে হয়েছে। আমি তাকে সম্মান জানাই, যারা নিজেদের পেশাগত জীবনে অবদান রেখেছেন কিন্তু নিজের এলাকাকে ভুলে যাননি। এলাকায় উন্নয়নে পাশে থাকেন। যে মহৎতম কাজ, একটি বিদ্যালয় তিনি প্রতিষ্ঠা তৈরি করে গেছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজ।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, এ এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাস বেশি। এখানে খন্দকার আবু আশফাক আপনাদের এমপি। এর আগেও তিনি কয়েকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানকার হিন্দু, মুসলমান ও খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যান্ত প্রিয় সে। আমি অনেকবার এ এলাকায় এসেছি। প্রতিটি মানুষ তার দ্বারা উপকার হয়। এখানকার মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। আমি একারণে মনেকরি, আসন্ন দুর্গাপূজা অত্যান্ত নিরাপদ ও নিরাপত্তাময় করার জন্য তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
রুহুল কবির রিজভী শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, জীবনকে অর্থবহ করতে শিক্ষাগ্রহন অপরিহার্য। তেমনি খেলাধুলা, শরীর চর্চা শরীর গঠনে সহায়ক। সুতরাং সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে নিজেকে সুস্থ বিনোদন ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, এদেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই নিজদের মতো বাঁচবো। নিজদের জীবনধারায় ধর্মপালন করবো। আমরা কেউ কারো ধর্মকে ছোট করে দেখবো না।
এমপি বলেন, এ যন্ত্রাইল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রাদায়ের বসবাস বেশি। বরাবরই, এ এলাকাটির মানুষ আমাকে বেশি ভালোবাসেন। বিগত সময়ে দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে ও গত সংসদ নির্বাচনে তারা আমাকে বিপুল ভোট দিয়েছেন। তাই আমি আপনাদের প্রতিটি উন্নয়নে পাশে থাকবো। আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আমার দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্বপালন করবেন।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু হাসান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাহমিনা আদনান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাধ্যেশ্যাম বাড়ৈর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের এএসপি শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সহ-সভাপতি আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ প্রমুখ।
পরে মহাসচিব, দোহারের জয়পাড়া কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।




















