রামপালে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি সেশন

রামপালে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি সেশন

জেন্ডার বৈষম্য রোধ ও সাইবার সচেতনতায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকার

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: আরিফ হাসান গজনবী

বাগেরহাটের রামপালে তরুণদের মধ্যে জেন্ডারবিষয়ক প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও বৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তরুণদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব, সাংবাদিক এবং যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রামপাল উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ‘স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি সেশন’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেশনগুলোর আয়োজন করে ক্রাফট ইনস্টিটিউট (CRAFT Institute) ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী। সভাপতিত্ব করেন ক্রাফট ইনস্টিটিউট ও যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো. সোহানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসাইন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রনিক হালদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. সাইফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া রামপাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজালাল গাজী, রামপাল মডেল মসজিদের খতিব আবুল হান্নান, স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অজয় কুমার সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মো. খৈয়াম হোসেন খিজির, মো. মুনাওয়ার হোসেন রনি, আরিফ হাসান গজনবী, মো. সাগর আহম্মেদ, মো. আব্দুল্লাহ শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ মাসুম বিল্লাহ, মো. রাকিবুল ইসলাম সুমন ও মো. নুরুজ্জামান শেখ।

সেশনে জেন্ডারবিষয়ক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ, সাইবার সচেতনতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপদ ব্যবহার, ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তরুণদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল তথ্যচর্চা এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও যুব সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন জানান। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এর আগে ১৩ অক্টোবর রামপাল সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৩৫ জন এবং ১৪ অক্টোবর গিলাতলা আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক দুটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেশনগুলোতে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকদের মতে, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং গণমাধ্যম ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ ও স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
মালিককে না জানিয়েই গাড়ির মালিকানা বদলে দিল বিআরটিএ দুদকে অভিযোগ

মালিককে না জানিয়েই গাড়ির মালিকানা বদলে দিল বিআরটিএ দুদকে অভিযোগ

রামপালে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের অ্যাডভোকেসি সেশন

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জেন্ডার বৈষম্য রোধ ও সাইবার সচেতনতায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকার

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: আরিফ হাসান গজনবী

বাগেরহাটের রামপালে তরুণদের মধ্যে জেন্ডারবিষয়ক প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও বৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় অ্যাডভোকেসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তরুণদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব, সাংবাদিক এবং যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রামপাল উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ‘স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি সেশন’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেশনগুলোর আয়োজন করে ক্রাফট ইনস্টিটিউট (CRAFT Institute) ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী। সভাপতিত্ব করেন ক্রাফট ইনস্টিটিউট ও যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো. সোহানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসাইন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রনিক হালদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. সাইফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া রামপাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজালাল গাজী, রামপাল মডেল মসজিদের খতিব আবুল হান্নান, স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অজয় কুমার সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মো. খৈয়াম হোসেন খিজির, মো. মুনাওয়ার হোসেন রনি, আরিফ হাসান গজনবী, মো. সাগর আহম্মেদ, মো. আব্দুল্লাহ শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ মাসুম বিল্লাহ, মো. রাকিবুল ইসলাম সুমন ও মো. নুরুজ্জামান শেখ।

সেশনে জেন্ডারবিষয়ক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ, সাইবার সচেতনতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপদ ব্যবহার, ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তরুণদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল তথ্যচর্চা এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও যুব সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন জানান। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এর আগে ১৩ অক্টোবর রামপাল সরকারি ডিগ্রি কলেজের ৩৫ জন এবং ১৪ অক্টোবর গিলাতলা আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক দুটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেশনগুলোতে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই এবং সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকদের মতে, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং গণমাধ্যম ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ ও স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা।