ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার, যাত্রা বাঁচবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেলপথে যাতায়াত আরও দ্রুত করতে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য হবে ৮১ কিলোমিটার। পুরো রেলপথ উড়ালপথে নির্মাণ করা হলে প্রাথমিক হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। পাশাপাশি যাত্রার সময়ও কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত উড়াল রেলপথ
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, রাজধানীর শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন এই রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, রেলপথটির সম্পূর্ণ অংশ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো রেলপথ উড়াল হবে, নাকি মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে নির্মিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণে ব্যয় বাড়বে ১০ হাজার কোটি টাকা
তথ্য উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। অন্যদিকে, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে নির্মাণ করা হলে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। তবে উড়াল কাঠামোয় রেলপথ নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে বলে প্রাথমিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৬০ কিলোমিটার গতির উপযোগী হবে রেলপথ
প্রস্তাবিত কর্ডলাইনটি ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেলপথ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগও থাকবে।
প্রকল্পের প্রাথমিক কারিগরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথটি ২৫ টন এক্সেল লোড বহনে সক্ষম হবে। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।
জমি অধিগ্রহণের পর চার বছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য
তথ্য উপদেষ্টা জানান, জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগতে পারে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, নির্মাণপদ্ধতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মিত হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দূরত্ব ও যাত্রার সময় কমানোর পাশাপাশি রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে থাকায় এর বাস্তবায়ন ও চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে সরকারি সিদ্ধান্তই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।



























