৫৮ বছরেও বদলায়নি মহিষখলা মাদ্রাসার চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

৫৮ বছরেও বদলায়নি মহিষখলা মাদ্রাসার চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান
বিশেষ প্রতিনিধি: শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছরেও অবহেলিত। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে আজও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন, শিক্ষিকা ০১ জন, অফিস কর্মচারী ০৫ জন এবং অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ৫০০ জনের অধিক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে সরকারের ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ কর্তৃক নির্মিত একতলা একাডেমিক ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনটি বেশ অনেকদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ভবন না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানেই পাঠদান চালানো হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন ভবনের দাবিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ক্রীড়া শিক্ষক আল আমিন বলেন,”পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে ৫০০ শিশুর জীবন নিয়ে আমরা প্রতিদিন ক্লাস করি। আমরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তিনি যেন দ্রুত আমাদের জন্য একটি নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।”
ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “৫৮ বছরের প্রতিষ্ঠান আজও টিনশেডে চলে। আমি মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তিনি যেন আমাদের দুর্দশা সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
ভারপ্রাপ্ত সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন,”ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও নতুন ভবন না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে টিনশেডে ক্লাস নিচ্ছি। সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আমাদের ৫০০ শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হোক।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন,”ভবনটি বেশ অনেকদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর অবস্থা খুবই বেহাল ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণ একান্ত দরকার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
কুড়িগ্রামে দৈনিক কালবেলার জেলা কার্যালয় উদ্বোধন, জেলার রাজনৈতিক সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মিলন মেলায় পরিণত

কুড়িগ্রামে দৈনিক কালবেলার জেলা কার্যালয় উদ্বোধন, জেলার রাজনৈতিক সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মিলন মেলায় পরিণত

৫৮ বছরেও বদলায়নি মহিষখলা মাদ্রাসার চিত্র, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি: শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছরেও অবহেলিত। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে আজও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন, শিক্ষিকা ০১ জন, অফিস কর্মচারী ০৫ জন এবং অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ৫০০ জনের অধিক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে সরকারের ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ কর্তৃক নির্মিত একতলা একাডেমিক ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনটি বেশ অনেকদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ভবন না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানেই পাঠদান চালানো হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন ভবনের দাবিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ক্রীড়া শিক্ষক আল আমিন বলেন,”পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে ৫০০ শিশুর জীবন নিয়ে আমরা প্রতিদিন ক্লাস করি। আমরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তিনি যেন দ্রুত আমাদের জন্য একটি নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।”
ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “৫৮ বছরের প্রতিষ্ঠান আজও টিনশেডে চলে। আমি মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তিনি যেন আমাদের দুর্দশা সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
ভারপ্রাপ্ত সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন,”ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও নতুন ভবন না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে টিনশেডে ক্লাস নিচ্ছি। সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আমাদের ৫০০ শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হোক।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন মোহাম্মদ ফারুক বলেন,”ভবনটি বেশ অনেকদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর অবস্থা খুবই বেহাল ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণ একান্ত দরকার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন