গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানায় জিডি; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানায় জিডি; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
সরকার শাহাদত হোসেন:
গাইবান্ধা শহরের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে শহীদ মিনারের একটি পিলারের টাইলসসহ কিছু অংশ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব গত ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে শহীদ মিনারে উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং এটি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গাইবান্ধা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। তবে জিডি করার তারিখ হিসেবে প্রাপ্ত তথ্যে ১৯ আগস্ট উল্লেখ রয়েছে, যা যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্রটি আরও জানায়, রোববার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এর পরদিন সোমবার সকালে শহীদ মিনারের বেশ কিছু অংশ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে জানানো হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এ ধরনের স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানিক- কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেলসহ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানিক- কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেলসহ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, থানায় জিডি; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সরকার শাহাদত হোসেন:
গাইবান্ধা শহরের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে শহীদ মিনারের একটি পিলারের টাইলসসহ কিছু অংশ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব গত ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে শহীদ মিনারে উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং এটি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গাইবান্ধা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। তবে জিডি করার তারিখ হিসেবে প্রাপ্ত তথ্যে ১৯ আগস্ট উল্লেখ রয়েছে, যা যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্রটি আরও জানায়, রোববার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এর পরদিন সোমবার সকালে শহীদ মিনারের বেশ কিছু অংশ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে জানানো হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এ ধরনের স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিজ্ঞাপন