লামায় জায়গা দখলে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

লামায় জায়গা দখলে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত নিকুঞ্জ বিহারীর ছেলে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া এ মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন বলে দাবী করেন কৃষক মো. আলমগীর। বুধবার দিনগত রাতে লামা থানা সংলগ্ন চৌধুরী মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. আলমগীরের ছেলে মো. জাহিদ।
এ সময় কৃষক মো. আলমগীর উপস্থিত ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভ্ক্তুভোগী কৃষক মো. আলমগীর উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের রেঙ্গাঘোনার বাসিন্দা মৃত মো. ইউনুছ ও মৃত মনেজা বেগমের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে জাহিদ হাসান উল্লেখ করেন, মো. জাহিদ হাসানের দাদী মনেজা বেগম ১৯৭৯-৮০ সালে লামা উপজেলার ২ নং লামা সদর ইউনিয়নের ২৯৫ নং লামা মৌজায় আর/০৮ নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর ৩য় শ্রেণির জায়গা বন্দোবস্তি পান। পরবর্তীতে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে সেখানে ফলজ ও বনজ বাগান সৃজন এবং বসতঘর নির্মাণ করে তারা সুদীর্ঘ ৪৫-৪৬ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। দাদির মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে এ জায়গা মো. আলমগীর ভোগ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ারা জায়গা দাবি করে গত ২২ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবান আদালতে ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা (নং- ১৬/২০২৬) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামাকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিন মৌজার হেডম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না যাওয়ায় গত ২০ অক্টোবর চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষক মো. আলমগীর ও সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে বলেন, আমাদের জায়গা জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া গং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
তবে অভিযুক্ত চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, মো. আলমগীর আমাদের জায়গা আত্নসাতের চেষ্টা করছেন। কৃষক আলমগীরকে আমাদের জায়গা দেখাশুনার জন্য থাকতে দিয়েছিলাম। এখন সে নিজের দাবী করে অযথা ঝামেলা করছেন।
এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত দিবেন। তবে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট আছি।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে সভা

তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে সভা

লামায় জায়গা দখলে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১১:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত নিকুঞ্জ বিহারীর ছেলে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া এ মিথ্যা-বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন বলে দাবী করেন কৃষক মো. আলমগীর। বুধবার দিনগত রাতে লামা থানা সংলগ্ন চৌধুরী মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. আলমগীরের ছেলে মো. জাহিদ।
এ সময় কৃষক মো. আলমগীর উপস্থিত ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভ্ক্তুভোগী কৃষক মো. আলমগীর উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের রেঙ্গাঘোনার বাসিন্দা মৃত মো. ইউনুছ ও মৃত মনেজা বেগমের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে জাহিদ হাসান উল্লেখ করেন, মো. জাহিদ হাসানের দাদী মনেজা বেগম ১৯৭৯-৮০ সালে লামা উপজেলার ২ নং লামা সদর ইউনিয়নের ২৯৫ নং লামা মৌজায় আর/০৮ নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর ৩য় শ্রেণির জায়গা বন্দোবস্তি পান। পরবর্তীতে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে সেখানে ফলজ ও বনজ বাগান সৃজন এবং বসতঘর নির্মাণ করে তারা সুদীর্ঘ ৪৫-৪৬ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। দাদির মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে এ জায়গা মো. আলমগীর ভোগ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ারা জায়গা দাবি করে গত ২২ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবান আদালতে ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা (নং- ১৬/২০২৬) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামাকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিন মৌজার হেডম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না যাওয়ায় গত ২০ অক্টোবর চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষক মো. আলমগীর ও সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে বলেন, আমাদের জায়গা জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া গং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
তবে অভিযুক্ত চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, মো. আলমগীর আমাদের জায়গা আত্নসাতের চেষ্টা করছেন। কৃষক আলমগীরকে আমাদের জায়গা দেখাশুনার জন্য থাকতে দিয়েছিলাম। এখন সে নিজের দাবী করে অযথা ঝামেলা করছেন।
এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত দিবেন। তবে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট আছি।
বিজ্ঞাপন