ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়
সোহানুর রহমান সোহান ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ)  প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের বন্দর নগরী  ভৈরবে  প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। সবার আন্তরিকতায় ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর  পঞ্চমদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ষষ্ঠ  দিনে মর্ত্যলোক( বাপের বাড়ি) থেকে বিদায় নেন দেবী দুর্গা স্বর্গলোকের কৈলাসে তাঁর স্বামী শিবের ঘরে ফিরে যাবেন । বাদ্য বাজনার তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে বিদায় দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বুধবার (২১অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০ টায় বন্দর নগরী ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর পূজা পালনে প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় ভৈরবে স্বতঃস্ফূর্ত দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে।  সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে মা দুর্গা এবার ঘোড়ায় (গটে) বাহনে আগমন করছেন। এর মানে সমৃদ্ধি ও শান্তির বার্তা, তবে বন্যা-জলবিপদেরও আশঙ্কা থাকে। পরে বিদায়ের সময় দেবী দুর্গা নৌকায়  গেছেন। এর মানে রোগ-শোক থেকে মুক্তি, কল্যাণ এবং প্রশান্তির প্রতীক।
ভৈরবে প্রতিমা বিসর্জনের মূল কেন্দ্র মেঘনা নদী, সুযোগ থাকবে অন্য স্থানেও
ভৈরব হরিজন  পূজা  উদযাপন পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক আজাদ লাল হরিজন বলেন, ভৈরব হচ্ছে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থ কেন্দ্র। যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর ভৈরবের সব ধর্মের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাকে উৎসব হিসেবে দেখে আসছে।
ভৈরব পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি চন্দন কুমার পাল  বলেন, আজ প্রতিমা বিসর্জনের দিন ভৈরবের চির যৌবনা মেঘনা নদীর পাড় সহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে  সব ধর্মের মানুষে ভরে গেছে— এটাই সম্প্রীতি, এটিই উৎসব, এটিই আন্তঃধর্মীয় সৌন্দর্য। সবাই সম্মিলিতভাবে ভৈরবে সম্প্রীতির বহমান মেলবন্ধনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
ভৈরব উপজেলা  পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানা যায়, এ বছর ভৈরব উপজেলায়   ২৮ টি মণ্ডপে পূজিত হয় দেবী দুর্গা।
উৎসবকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল আয়োজক ও ভক্তরা। পরে বিষাদের সুর জাগিয়ে উত্তাল এই নদীতে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আনা দেবী দুর্গাদের বিসর্জন দেওয়া হয়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দৈনিক ইনকিলাব -কে জানান, প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি করায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভৈরবে দুর্গোৎসব পালন করা হয়, যা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
সুন্দরগঞ্জে ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার-১

সুন্দরগঞ্জে ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার-১

ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সোহানুর রহমান সোহান ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ)  প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের বন্দর নগরী  ভৈরবে  প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। সবার আন্তরিকতায় ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর  পঞ্চমদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ষষ্ঠ  দিনে মর্ত্যলোক( বাপের বাড়ি) থেকে বিদায় নেন দেবী দুর্গা স্বর্গলোকের কৈলাসে তাঁর স্বামী শিবের ঘরে ফিরে যাবেন । বাদ্য বাজনার তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে বিদায় দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বুধবার (২১অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০ টায় বন্দর নগরী ভৈরবে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর পূজা পালনে প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় ভৈরবে স্বতঃস্ফূর্ত দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে।  সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে মা দুর্গা এবার ঘোড়ায় (গটে) বাহনে আগমন করছেন। এর মানে সমৃদ্ধি ও শান্তির বার্তা, তবে বন্যা-জলবিপদেরও আশঙ্কা থাকে। পরে বিদায়ের সময় দেবী দুর্গা নৌকায়  গেছেন। এর মানে রোগ-শোক থেকে মুক্তি, কল্যাণ এবং প্রশান্তির প্রতীক।
ভৈরবে প্রতিমা বিসর্জনের মূল কেন্দ্র মেঘনা নদী, সুযোগ থাকবে অন্য স্থানেও
ভৈরব হরিজন  পূজা  উদযাপন পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক আজাদ লাল হরিজন বলেন, ভৈরব হচ্ছে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থ কেন্দ্র। যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর ভৈরবের সব ধর্মের মানুষ শারদীয় দুর্গাপূজাকে উৎসব হিসেবে দেখে আসছে।
ভৈরব পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি চন্দন কুমার পাল  বলেন, আজ প্রতিমা বিসর্জনের দিন ভৈরবের চির যৌবনা মেঘনা নদীর পাড় সহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে  সব ধর্মের মানুষে ভরে গেছে— এটাই সম্প্রীতি, এটিই উৎসব, এটিই আন্তঃধর্মীয় সৌন্দর্য। সবাই সম্মিলিতভাবে ভৈরবে সম্প্রীতির বহমান মেলবন্ধনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
ভৈরব উপজেলা  পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানা যায়, এ বছর ভৈরব উপজেলায়   ২৮ টি মণ্ডপে পূজিত হয় দেবী দুর্গা।
উৎসবকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল আয়োজক ও ভক্তরা। পরে বিষাদের সুর জাগিয়ে উত্তাল এই নদীতে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আনা দেবী দুর্গাদের বিসর্জন দেওয়া হয়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দৈনিক ইনকিলাব -কে জানান, প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি করায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভৈরবে দুর্গোৎসব পালন করা হয়, যা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
বিজ্ঞাপন