১০ পর্যটকের মৃত্যু থানায় মামলা, তদন্ত দলের পরিদর্শন ঢাকায় গেলো ডিএনএ নমুনা

১০ পর্যটকের মৃত্যু থানায় মামলা, তদন্ত দলের পরিদর্শন ঢাকায় গেলো ডিএনএ নমুনা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্ট মালিক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী মো. তানভীরকে প্রধান আসামী উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার শনিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এছাড়া ১০ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে সিআইডি পুলিশ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ঘটনার দিন শনিবার দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে ২৩জনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। অন্যরা অজ্ঞাত আসামি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে ঘটনার আটক করা হয়। মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে কমিটির পাঁচ সদস্য গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে সেটি খতিয়ে দেখতে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটি ঘুরে দেখেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। দলের সদস্যরা ১০ জনের মৃত্যু ও আগুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের জন্য পাঁচ কার্যদিবসের বেশি সময়ও লাগতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এর আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার দিনই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে প্রধান কমিটিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পরিদর্শন ও তদন্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমরা আগুন লাগার কারণ, পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও নথিপত্র ছিল কি না এবং অবকাঠামোগত কী কী সমস্যা ছিল তা খতিয়ে দেখেছি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন। যত দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
পুলিশ, হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় জানা যায়নি।

এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হলেও কোনোটি কার লাশ সেটি শনাক্ত করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ আগুনে পুড়ে তাঁদের লাশ বিকৃত হয়ে গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর কোনটি কার লাশ সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তিনি জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য সদর হাসপাতালে যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিআইডি দলের সমন্বয়ে ১০ মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। নমুনার পরীক্ষার ফল পেতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লাগতে বলে জানান আরএমও সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল। ততদিন পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে থাকবে জানান তিনি।

ডিএনএ পরীক্ষা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সদর হাসপাতালের মর্গ রাখা ১০ মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় সিআইডির হেডকোয়ার্টে গিয়ে নমুনা দিয়েছেন নিহতের পিতা ও অন্যান্য রক্তের স্বজনরা। এর মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

ট্যাগ
জনপ্রিয়
বগুড়ায় চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে, রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বগুড়ায় চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে, রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

১০ পর্যটকের মৃত্যু থানায় মামলা, তদন্ত দলের পরিদর্শন ঢাকায় গেলো ডিএনএ নমুনা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্ট মালিক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী মো. তানভীরকে প্রধান আসামী উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার শনিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এছাড়া ১০ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে সিআইডি পুলিশ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ঘটনার দিন শনিবার দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে ২৩জনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। অন্যরা অজ্ঞাত আসামি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে ঘটনার আটক করা হয়। মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে কমিটির পাঁচ সদস্য গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে সেটি খতিয়ে দেখতে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটি ঘুরে দেখেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। দলের সদস্যরা ১০ জনের মৃত্যু ও আগুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের জন্য পাঁচ কার্যদিবসের বেশি সময়ও লাগতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এর আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার দিনই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে প্রধান কমিটিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পরিদর্শন ও তদন্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমরা আগুন লাগার কারণ, পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও নথিপত্র ছিল কি না এবং অবকাঠামোগত কী কী সমস্যা ছিল তা খতিয়ে দেখেছি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন। যত দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
পুলিশ, হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় জানা যায়নি।

এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হলেও কোনোটি কার লাশ সেটি শনাক্ত করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ আগুনে পুড়ে তাঁদের লাশ বিকৃত হয়ে গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর কোনটি কার লাশ সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তিনি জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য সদর হাসপাতালে যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিআইডি দলের সমন্বয়ে ১০ মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় নমুনাগুলো ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। নমুনার পরীক্ষার ফল পেতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লাগতে বলে জানান আরএমও সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল। ততদিন পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে থাকবে জানান তিনি।

ডিএনএ পরীক্ষা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সদর হাসপাতালের মর্গ রাখা ১০ মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় সিআইডির হেডকোয়ার্টে গিয়ে নমুনা দিয়েছেন নিহতের পিতা ও অন্যান্য রক্তের স্বজনরা। এর মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’