তেঁতুলিয়ায় ‘বাংলাদেশ-৮৮’র বর্ণিল মিলনমেলা: স্মৃতি আর বন্ধুত্বে দিনভর উৎসব

তেঁতুলিয়ায় ‘বাংলাদেশ-৮৮’র বর্ণিল মিলনমেলা: স্মৃতি আর বন্ধুত্বে দিনভর উৎসব
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: 
‘উৎসবে আনন্দে, বন্ধুত্বের বন্ধনে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ১৯৮৮ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন
‘বাংলাদেশ-৮৮’র ষষ্ঠ মিলনমেলা। শুক্রবার দেশের উত্তর প্রান্তের ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল এই উৎসব। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা কয়েকশ বন্ধুর পদচারণায় ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক টুকরো মিলনতীর্থে।
সকালে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। র‌্যালিটি ডাকবাংলোর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পরিচয় পর্ব। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বন্ধুরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংগঠনের জেলা প্যানেল কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম সোহাগ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ-৮৮ কেবল একটি স্মৃতিচারণের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সংগঠন। আমরা বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণের মতো সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’ তিনি জানান, এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ‘প্রজন্ম-৮৮’ প্রকল্পও কাজ শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর আকরাম হোসেন জাকারিয়া।
বিকেলে বিশেষ পর্বে ‘প্রজন্ম-৮৮’র মেধাবী সদস্যদের পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলার ক্রীড়া ও নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং ‘সবুজ তেঁতুলিয়া’ গড়তে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ভুল্কা ভাত’, লটারি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বন্ধুদের গাওয়া গান ও স্মৃতিচারণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম সোহাগ অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতাকারী সকল বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে—এমনই প্রত্যাশায় শেষ হয় মিলনমেলার ষষ্ঠ আসর।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রিপন হোসেন, সাজেদার রহমান রাজু, হুমায়ুন কবির মিন্টু, জয়নাল আবেদিন ঝুনু, আজিজুর রহমান লিটন, ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বন্ধুরা।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
চিতলমারীতে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্র প্রিতম, উৎকণ্ঠায় পরিবার

চিতলমারীতে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্র প্রিতম, উৎকণ্ঠায় পরিবার

তেঁতুলিয়ায় ‘বাংলাদেশ-৮৮’র বর্ণিল মিলনমেলা: স্মৃতি আর বন্ধুত্বে দিনভর উৎসব

আপডেট সময় : ০৫:০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: 
‘উৎসবে আনন্দে, বন্ধুত্বের বন্ধনে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ১৯৮৮ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন
‘বাংলাদেশ-৮৮’র ষষ্ঠ মিলনমেলা। শুক্রবার দেশের উত্তর প্রান্তের ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল এই উৎসব। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা কয়েকশ বন্ধুর পদচারণায় ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক টুকরো মিলনতীর্থে।
সকালে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। র‌্যালিটি ডাকবাংলোর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পরিচয় পর্ব। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বন্ধুরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংগঠনের জেলা প্যানেল কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম সোহাগ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ-৮৮ কেবল একটি স্মৃতিচারণের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সংগঠন। আমরা বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণের মতো সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’ তিনি জানান, এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ‘প্রজন্ম-৮৮’ প্রকল্পও কাজ শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর আকরাম হোসেন জাকারিয়া।
বিকেলে বিশেষ পর্বে ‘প্রজন্ম-৮৮’র মেধাবী সদস্যদের পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলার ক্রীড়া ও নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং ‘সবুজ তেঁতুলিয়া’ গড়তে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ভুল্কা ভাত’, লটারি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বন্ধুদের গাওয়া গান ও স্মৃতিচারণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম সোহাগ অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতাকারী সকল বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বন্ধুত্বের এই অটুট বন্ধন ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে—এমনই প্রত্যাশায় শেষ হয় মিলনমেলার ষষ্ঠ আসর।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রিপন হোসেন, সাজেদার রহমান রাজু, হুমায়ুন কবির মিন্টু, জয়নাল আবেদিন ঝুনু, আজিজুর রহমান লিটন, ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বন্ধুরা।
বিজ্ঞাপন