রাজীবপুর উপজেলায় সারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং স্লিপ বিতরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালের দিকে উপজেলা শহরে অবস্থিত ‘সফি এন্টারপ্রাইজ’ নামের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে উপজেলা শহরে সফি এন্টারপ্রাইজ থেকে রাজীবপুর সদর ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের কথা ছিল। সারের জন্য ভোর থেকেই ডিলার পয়েন্টের সামনে অপেক্ষা করছিলেন কৃষকরা। নির্ধারিত সময় সকাল ৯ টা পেরিয়ে গেলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরে দোকান খুললে কয়েকজন ডিলারের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা সারের স্লিপ দিয়ে সার নিতে শুরু করলে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। ডিলার বাড়িতে বসে পছন্দের মানুষেদের সারের স্লিপ দিচ্ছেন এতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কতিপয় কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে যায়।
তবে, গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছেন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েকুল হাসান খান। তিনি বলেন, কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।
সার না পেয়ে ডিলারের শাস্তি ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে দুপুরের দিকে সার না পাওয়া কৃষকেরা বিক্ষোভ করেন । পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে যান এবং ইউএনওর সাথে কথা বলে তাদের অভিযোগ জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ডিলার পয়েন্টের পাশ্ববর্তী কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ডিলার তাঁর বাড়িতে বসে কৃষকদের স্লিপ দিচ্ছিলেন। স্লিপ নিয়ে গুদামে এসে কৃষকেরা সার নিতে শুরু করলে বাইরে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর কয়েকজন গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রতিবোধ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ডিলার সফিউর বহমান শফি বলেন, বিতরণের জন্য গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুদ ছিল। কিন্তু এর চেয়ে বেশি মানুষ সারের জন্য ভিড় করছিল।বাজারের পাশ্ববর্তী আমার বাড়ি। ভিড় সামলাতে ও বিতরণের সুবিধার্থে বাড়ি থেকে কৃষকদের স্লিপ দিচ্ছিলাম। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস অবগত। কৃষক নামধারী কিছু ব্যক্তি স্লিপধারী কৃষকদের গুদাম থেকে সার নিতে বাধা দেয়। পরে গুদামে হামলা চালিয়ে বেশ কিছু বস্তা সার নিয়ে যায়। এর মধ্যে কিছু বস্তা ফেরত পাওয়া গেছে।
বিশৃঙ্খলার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থকদের ইন্ধন ছিল দাবি করে তিনি আরও বলেন, তাদের আবাদি জমি না থাকলেও সারের জন্য ভিড়ের মধ্যে ঢুকেছিল। তারাই কিছু বস্তা নিয়ে গেছে। আমি ওসি সাহেবকে তাদের নাম বলেছি ।
রাজীবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, সার বিতরণে সময় কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন সার মজুদ আছে এবং নতুন করে আরও বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে সকল কৃষকরা সার পাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।




















