বীরগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘোষিত স্কুল ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে ১২৬ শিক্ষার্থী

বীরগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘোষিত স্কুল ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে ১২৬ শিক্ষার্থী
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, ফাটলধরা পিলার এবং বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে ১২৬ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ছোট অফিস কক্ষ রয়েছে। অফিস কক্ষটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। তিনটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকেই নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদের বড় বড় ফাটলধরা বিম ও পিলার ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় ২০টি বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কর্মরত আছেন প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক।
স্কুলের শিক্ষার্থীর জানায়, “যখন-তখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। আমরা ভয় নিয়ে ক্লাস করি। বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে পড়ে, অনেক সময় বই-খাতাও ভিজে যায়।”
বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠদান ও পাঠ গ্রহণে মনোযোগ দিতে পারছে না। একই সঙ্গে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগে থাকছেন অভিভাবকরাও।
স্থানীয় একজন অভিভাবক বলেন, “আমার দুই সন্তান এই স্কুলে পড়ে। সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। আশপাশে অন্য স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে পড়াই। সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. দুলালি বলেন, ভবনের বর্তমান অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব জানান, একসময় বিদ্যালয়টিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ১২৬ জনে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান বলেন, বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আগামীতে কোনো প্রকল্পের আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত 

বীরগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘোষিত স্কুল ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে ১২৬ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, ফাটলধরা পিলার এবং বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে ১২৬ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ছোট অফিস কক্ষ রয়েছে। অফিস কক্ষটি প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। তিনটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকেই নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদের বড় বড় ফাটলধরা বিম ও পিলার ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় প্রায় ২০টি বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কর্মরত আছেন প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক।
স্কুলের শিক্ষার্থীর জানায়, “যখন-তখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। আমরা ভয় নিয়ে ক্লাস করি। বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে পড়ে, অনেক সময় বই-খাতাও ভিজে যায়।”
বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠদান ও পাঠ গ্রহণে মনোযোগ দিতে পারছে না। একই সঙ্গে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগে থাকছেন অভিভাবকরাও।
স্থানীয় একজন অভিভাবক বলেন, “আমার দুই সন্তান এই স্কুলে পড়ে। সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। আশপাশে অন্য স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে পড়াই। সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. দুলালি বলেন, ভবনের বর্তমান অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব জানান, একসময় বিদ্যালয়টিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ১২৬ জনে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান বলেন, বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আগামীতে কোনো প্রকল্পের আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।