কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার গোপনে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে দিনাজপুরের বিরলে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ১ হাজার ৩৯১ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারজন সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সার মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিন সন্ধ্যায় উপজেলার ২ নম্বর ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৮২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারের মধ্যে ৪৪৬ বস্তা টিএসপি, ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৬ বস্তা এমওপি এবং ১৪ বস্তা ইউরিয়া ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. নাসিম ইকবাল খোকনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই রাতে পাশের এলাকায় লাইসেন্সবিহীন খুচরা বিক্রেতা মো. আলিমের দোকান থেকে ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের দুটি কক্ষ থেকে নিবন্ধনবিহীন ৮২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে চককাঞ্চন মোড় এলাকায় মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫১০ বস্তা ডিএপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। অবৈধ মজুদের অভিযোগে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সার গোপনে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপচেষ্টা চালাতে পারে। ফলে কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যে সার পেতে সমস্যায় পড়েন এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জব্দকৃত সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




















