খানসামায় দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান: ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা ৯০ হাজার টাকা

খানসামায় দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান: ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা ৯০ হাজার টাকা
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অনুমোদিতভাবে রাসায়নিক সার মজুতের অভিযোগে দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে মোট ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ সময় দুই ডিলারকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সংগে একটি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টংগুয়া বাজার ও পাকেরহাট এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স-এ অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং জব্দকৃত সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।
অন্যদিকে একই দিনে পাকেরহাট এলাকায় বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স-এর গুদামে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গুদাম থেকে মোট ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয়কৃত ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি গুদামটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার, থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নির্ধারিত সীমার বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার জানান, টংগুয়া বাজার থেকে জব্দ করা ২০৭ বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একইভাবে পাকেরহাট থেকে জব্দ করা সারও প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কৃষকদের হয়রানির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত 

খানসামায় দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান: ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা ৯০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অনুমোদিতভাবে রাসায়নিক সার মজুতের অভিযোগে দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে মোট ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ সময় দুই ডিলারকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সংগে একটি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টংগুয়া বাজার ও পাকেরহাট এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স-এ অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং জব্দকৃত সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।
অন্যদিকে একই দিনে পাকেরহাট এলাকায় বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স-এর গুদামে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গুদাম থেকে মোট ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয়কৃত ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি গুদামটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার, থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নির্ধারিত সীমার বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার জানান, টংগুয়া বাজার থেকে জব্দ করা ২০৭ বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একইভাবে পাকেরহাট থেকে জব্দ করা সারও প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কৃষকদের হয়রানির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।