আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন বিজয়া দশমী। উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১৮টিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। অন্য একটি মণ্ডপে প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিকলী পুরান বাজার লঞ্চঘাটে তিনটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
আগের বছরের তুলনায় এবার উৎসবে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা। পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবারের দুর্গোৎসব।
বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে, এদিন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর বিদায়কে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
হিন্দুধর্মীয় পুরাণে দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের পরাজয় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। সেই পৌরাণিক বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রতিবছর দুর্গোৎসব উদ্যাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবারের দুর্গোৎসবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি। কমিটির নেতারা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পেরেছেন ভক্তরা।
দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যেরও বার্তা বহন করে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতির এই আবহ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।



















