লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ঘটনার ভিডিও ধারণের দায়ে নুরনবী নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুই ধারায় তাঁকে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নুরনবী হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে।
এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ওই স্কুলছাত্রী তার বাবার শস্যখেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় মাঠে কাজ করা নুরনবী তাকে একা পেয়ে পাশের ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় মামলা করে। তদন্ত শেষে নুরনবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের দায়ে নুরনবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি ধারায় তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের অন্য ধারায় আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার মোবারক আলী ও বেলাল হোসেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, এ রায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখবে।




















