নেত্রকোনায় বিদ্যালয় ভবন রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ

নেত্রকোনায় বিদ্যালয় ভবন রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় নদী ভাঙন রোধের প্রকল্পে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।বাদী হোসাইন কবির জেলা প্রশাসকসহ একাধিক অফিসে ঠিকাদার ও কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার অংশে জরুরি ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়। হিসাব অনুযায়ী,১২ মিটার লম্বা ১৩টি শক্ত কাঠের বল্লা সোনালু,তেঁতুল বা জাম গাছের ও ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যে কমপক্ষে ৩৯টি ব্যারাক বাঁশের পাইলিং, ওয়ালিং পিস ২০ মি.মি.নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো,২৫০ কেজি ওজনের ৩ হাজার ১২৫টি জিও-ব্যাগ ডাম্পিং এবং ১৭৫ কেজি ওজনের ১ হাজার ২১০টি শুকনো বালুর জিও-ব্যাগ প্লেসিং করার কথা।
অভিযোগে প্রকাশ,প্রাক্কলন আইন উপেক্ষা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কাউকে কিছু না জানিয়ে ঠিকাদার কাজ করেছেন।এ প্রকল্পে শুকনো বালুর পরিবর্তে ভেজা বালু ব্যবহার করা হয়েছে,পাইলিংয়ে শক্ত কাঠের বল্লার পরিবর্তে মেহগনি গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী পরিমাণমতো মালামালই দেওয়া হয়নি। এতে তদারকি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে ঠিকাদার কাজ করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাগজান গ্রামের সচেতন মহল স্থানীয় ইউপি সদস্যকে একবার কাজ বন্ধ করা হয়। শুধু তাই নয় প্রাক্কলন গোপন রেখে ঠিকাদার নিজের মতো করে কাজ শেষ করেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ ঠিকাদার শেষ করেছেন। তবে এ কাজ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাগজান গ্রামের আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন,”বিদ্যালয় রক্ষার উদ্যোগ প্রকল্প দেওয়ার খবর শুনে এলাকার লোকজন খুব খুশি হয়েছিল। ঠিকাদার আইন উপেক্ষা করে গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ইচ্ছে মতো কাজ করায় অনেকের ভেতরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাগজান গ্রামের পুতুল মিয়া জানান,”বিদ্যালয় রক্ষার প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনেকের আগ্ৰহ ছিল।অনিয়ম করে ইচ্ছে মতো কাজ করায় হতাশ হয়েছেন এলাকার লোকজন। সরকারি টাকা খরচ করে ফাঁকি দিয়ে এমন কাজ করা ঠিক হয়নি।
তিয়শ্রী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ বলেন,” এখানে কাজে অনেক ফাঁক রয়েছে।ঠিকাদার একদিন আমাকে ডেকে নিয়ে একটি বালুর বস্তা ওজন করে দেখান। ব্যাগে ২৮০ কেজি বালু ছিল। তবে জিও-ব্যাগের মধ্যে ভেজা বালু দিয়েছেন।
অভিযোগকারী হোসাইন কবির জানান,”এলাকার বিদ্যালয়ের রক্ষা প্রকল্পে কোন আইন মানা হয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের ভালো হয়নি।এখানে এক কথায় সাগর চুরি হয়েছে। এই কাজে ঠিকাদারকে টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান। দাবি করছি উর্ধ্বতন তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি উজ্জ্বল তালুকদার বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে,ডিসি স্যার অভিযোগ পেয়ে তাদের ডেকেছেন। তবে আমরা কাজে কোনো অনিয়ম করিনি।সব অভিযোগ সত্য নয়।”
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি এসব কি বুঝবো।কোনো প্রকল্প দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার কথা বলতে পারেন।
বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন,”পত্রিকায় নিউজ হয়েছে।ঠিকাদার বালুভর্তি জিও-ব্যাগ নদীতে ফেলানোর সময় আমাকে বা পিয়নকে ডেকে নিয়েছেন। তবে এর আগে বল্লাসহ যা ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরিবর্তন করা হয়নি। জিও-ব্যাগে ভেজা বালু দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন,” জেলার মদন উপজেলার বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফরিদপুরে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনায় বিদ্যালয় ভবন রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:০০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় নদী ভাঙন রোধের প্রকল্পে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।বাদী হোসাইন কবির জেলা প্রশাসকসহ একাধিক অফিসে ঠিকাদার ও কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার অংশে জরুরি ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়। হিসাব অনুযায়ী,১২ মিটার লম্বা ১৩টি শক্ত কাঠের বল্লা সোনালু,তেঁতুল বা জাম গাছের ও ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যে কমপক্ষে ৩৯টি ব্যারাক বাঁশের পাইলিং, ওয়ালিং পিস ২০ মি.মি.নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো,২৫০ কেজি ওজনের ৩ হাজার ১২৫টি জিও-ব্যাগ ডাম্পিং এবং ১৭৫ কেজি ওজনের ১ হাজার ২১০টি শুকনো বালুর জিও-ব্যাগ প্লেসিং করার কথা।
অভিযোগে প্রকাশ,প্রাক্কলন আইন উপেক্ষা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কাউকে কিছু না জানিয়ে ঠিকাদার কাজ করেছেন।এ প্রকল্পে শুকনো বালুর পরিবর্তে ভেজা বালু ব্যবহার করা হয়েছে,পাইলিংয়ে শক্ত কাঠের বল্লার পরিবর্তে মেহগনি গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী পরিমাণমতো মালামালই দেওয়া হয়নি। এতে তদারকি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে ঠিকাদার কাজ করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এ প্রকল্পের কাজ চলাকালীন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাগজান গ্রামের সচেতন মহল স্থানীয় ইউপি সদস্যকে একবার কাজ বন্ধ করা হয়। শুধু তাই নয় প্রাক্কলন গোপন রেখে ঠিকাদার নিজের মতো করে কাজ শেষ করেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ ঠিকাদার শেষ করেছেন। তবে এ কাজ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাগজান গ্রামের আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন,”বিদ্যালয় রক্ষার উদ্যোগ প্রকল্প দেওয়ার খবর শুনে এলাকার লোকজন খুব খুশি হয়েছিল। ঠিকাদার আইন উপেক্ষা করে গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ইচ্ছে মতো কাজ করায় অনেকের ভেতরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাগজান গ্রামের পুতুল মিয়া জানান,”বিদ্যালয় রক্ষার প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনেকের আগ্ৰহ ছিল।অনিয়ম করে ইচ্ছে মতো কাজ করায় হতাশ হয়েছেন এলাকার লোকজন। সরকারি টাকা খরচ করে ফাঁকি দিয়ে এমন কাজ করা ঠিক হয়নি।
তিয়শ্রী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ বলেন,” এখানে কাজে অনেক ফাঁক রয়েছে।ঠিকাদার একদিন আমাকে ডেকে নিয়ে একটি বালুর বস্তা ওজন করে দেখান। ব্যাগে ২৮০ কেজি বালু ছিল। তবে জিও-ব্যাগের মধ্যে ভেজা বালু দিয়েছেন।
অভিযোগকারী হোসাইন কবির জানান,”এলাকার বিদ্যালয়ের রক্ষা প্রকল্পে কোন আইন মানা হয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের ভালো হয়নি।এখানে এক কথায় সাগর চুরি হয়েছে। এই কাজে ঠিকাদারকে টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান। দাবি করছি উর্ধ্বতন তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি উজ্জ্বল তালুকদার বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে,ডিসি স্যার অভিযোগ পেয়ে তাদের ডেকেছেন। তবে আমরা কাজে কোনো অনিয়ম করিনি।সব অভিযোগ সত্য নয়।”
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি এসব কি বুঝবো।কোনো প্রকল্প দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার কথা বলতে পারেন।
বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন,”পত্রিকায় নিউজ হয়েছে।ঠিকাদার বালুভর্তি জিও-ব্যাগ নদীতে ফেলানোর সময় আমাকে বা পিয়নকে ডেকে নিয়েছেন। তবে এর আগে বল্লাসহ যা ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরিবর্তন করা হয়নি। জিও-ব্যাগে ভেজা বালু দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন,” জেলার মদন উপজেলার বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন