
পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাটমিক টেকনোলজিস লাইসেন্সড ফর অ্যাপ্লিকেশন্স অব সি (এটলাস) মন্ত্রীপর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বক্তব্য রাখেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ও স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রযুক্তি কম-কার্বন বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা তিনগুণ করার উদ্যোগকে সমর্থন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এবং সীমিত নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে জ্বালানি চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রতীক।
তবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতার বিষয়েও বাংলাদেশ সচেতন বলে জানান তিনি। উদ্ভাবনী রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সেফগার্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ উন্নত স্মল মডিউলার রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রযুক্তি, নীতিমালা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
এটলাস উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সামুদ্রিক ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একত্রিত করছে এই উদ্যোগ।
সিভিল নিউক্লিয়ার মেরিটাইম শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ আইএইএর এটলাস উদ্যোগের সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।













